ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

গরুর সঙ্গে বেঁধে শিশুকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, আটক ১

গরুর সঙ্গে বেঁধে শিশুকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ, আটক ১
×

ম্যাপ

আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ২৩:৩২

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় গরু তাড়িয়ে দেওয়া ১০ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রকে গরুর সঙ্গে রশি দিয়ে বেঁধে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গরুটি দৌড়ে গেলে শিশুটির গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের উপক্রম হয়। স্থানীয়রা দ্রুত এসে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর অভিযুক্ত কাওছার মৃধাকে আটক করেছে পুলিশ।

আহত শিশু তামিম ইসলাম (১০) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা। সে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার নওয়াপাড়া গ্রামে লজিং থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে নওয়াপাড়া এলাকার মারকাজুল কুরআন মাদ্রাসার বাউন্ডারির ভেতরে স্থানীয় কাওছার মৃধার একটি গরু ঢুকে গাছপালা খেতে থাকে। এ সময় নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী তামিম গরুটি তাড়িয়ে দেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাওছার মৃধা শিশুটিকে ওই গরুর রশি দিয়ে গরুর সঙ্গে বেঁধে ছেড়ে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গরুটি ছুটে দৌড় দিলে তামিমকেও তার সঙ্গে টেনে নিয়ে যেতে থাকে। একপর্যায়ে রশি তার গলায় পেঁচিয়ে যায়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত এসে তাকে উদ্ধার করে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। শুক্রবার সকালে নওয়াপাড়া ও কুচিয়াগ্রাম গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার জন্য সালিশের উদ্যোগ নিলেও কোনো সমাধান হয়নি।

এরপর অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নেয়। তবে কর্মসূচি শুরুর আগেই শুক্রবার দুপুরে পুলিশ কাওছার মৃধাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয় নওয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোমিনুল ইসলাম সোহাগ বলেন, ‘শিশুর ওপর এমন নির্মম আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।’ লজিং মালিক চেরাগ আলী বলেন, ‘তামিম আমার বাড়িতে থাকত। সে আমার সন্তানের মতো। তার সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। আমি ঘটনার বিচার চাই।’

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই দুঃখজনক। স্থানীয় মুরব্বিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা হলেও আমরা সুষ্ঠু বিচার প্রত্যাশা করছি।’

অভিযুক্ত কাওছার মৃধার ছোট ভাই বিশু মৃধা বলেন, ‘ঘটনার বিস্তারিত আমি জানি না। পুলিশ আমার ভাইকে আটক করেছে। তদন্তে যদি তিনি দোষী প্রমাণিত হন, তাহলে অবশ্যই তাঁর বিচার হওয়া উচিত।’

আলফাডাঙ্গা থানার ওসি ফকির তাইজুর রহমান বলেন, ‘শিশু নির্যাতনের অভিযোগে কাওছার মৃধা নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×