ব্যবসায়ীকে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আল আমিন
ফরিদপুর অফিস
প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ২৩:১৫ | আপডেট: ১২ জুন ২০২৬ | ২৩:২২
নগরকান্দা উপজেলার তালমা ইউনিয়নের শাকপালদিয়া গ্রামে যুবককে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন এবং টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গত বুধবার থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে ওই গ্রামের মজিদ ফকির, তাঁর নাতি সেনা সদস্য মুকুল এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যকে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
আল আমিন (২৪) ধুতরাহাটি গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় ছাগল ব্যবসায়ী।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, গত ৯ জুন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে শাকপালদিয়া গ্রামের একটি নম্বর থেকে আল আমিনের কাছে ফোন করে দুটি ছাগল বিক্রির কথা বলা হয়। ছাগল কিনতে তিনি ওই গ্রামে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে একটি বাড়ির ভেতরে নিয়ে চেয়ারের সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর তাঁর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এক পর্যায়ে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধেরও চেষ্টা করা হয়। নির্যাতনের সময় অভিযুক্তরা তাঁর কাছে থাকা ব্যবসার নগদ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় আল আমিনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আল আমিন বলেন, ‘আমাকে মারধর করার সময় বলা হয়, তাদের এক আত্মীয়ের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ঘটনায় আমাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। আমি কোনো অন্যায় করিনি। এর পরও আমাকে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে এবং আমার সঙ্গে থাকা টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে।’
ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বললে তারা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তবে তারা স্বীকার করে, আল আমিনকে ছাগল কেনার কথা বলে বাড়িতে ডেকে এনে আটকে রাখা এবং মারধর করা হয়েছিল।
তাদের দাবি, কয়েক দিন আগে সালথা সদর বাজারে তাদের এক স্বজন প্রতারণার শিকার হয়ে টাকা হারিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় আল আমিন জড়িত থাকতে পারেন– এমন সন্দেহ থেকেই তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তাঁর সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে তারা।
ভুক্তভোগীর মা লিমা নাজনিন বলেন, ‘আমার ছেলেকে অন্যায়ভাবে মারধর করা হয়েছে। তাঁর কাছে থাকা টাকা-পয়সাও নিয়ে নেওয়া হয়েছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
নগরকান্দা থানার ওসি রাসূল সামদানী আজাদ বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
