ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

জয়পুরহাটে তুলসীগঙ্গার তীরে শতবর্ষী ঘুড়ি মেলা

জয়পুরহাটে তুলসীগঙ্গার তীরে শতবর্ষী ঘুড়ি মেলা
×

ছবি: সমকাল

ক্ষেতলাল (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬ | ২২:৫৭

জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার মহব্বতপুর গ্রাম ঘেঁষে তুলসীগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত সন্ন্যাসতলীর বটতলা। জায়গাটিতে প্রায় একশ বছর আগে থেকে জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষ শুক্রবার আয়োজন হয় ঘুড়ি মেলা। এবারও আশপাশের অন্তত ৫০ গ্রামের হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে শুক্রবার সন্ন্যাসতলীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঘুড়ি উৎসব।

প্রবীণ বাসিন্দারা বলছেন, ঘুড়ি উৎসবে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায় সন্ন্যাস পূজা পালন করেন। তাদের পূজা-অর্চনা ঘিরে এ মেলার উৎপত্তি। তবে ঠিক কবে থেকে মেলা শুরু হয়েছে, সেটি কেউ বলতে পারেননি। তারা শুধু জানেন, একশ বছরের বেশি সময় ধরে এ মেলা চলে আসছে। 

মেলার নিজস্ব জায়গা না থাকলেও এর ব্যাপ্তি প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই মেলা ঘিরে জেলার জামালগঞ্জ চারমাথা থেকে আছরাঙ্গাদীঘি পর্যন্ত রকমারি পণ্যের দোকান বসে। এখান থেকে দৈনন্দিন আসবাব থেকে শুরু করে মাছ ধরার খলসানি, টোপা, ডালা, চালুন, তৌরা জাল, খেলনা, মিষ্টান্ন ইত্যাদি কিনে নেন স্থানীয়রা।

মেলার বড় আকর্ষণ ঘুড়ি ওড়ানো ও বিক্রি। পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসেছিলেন ঘুড়ি বিক্রি করতে। তবে প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি তেমন বাতাস না থাকায় এবার ঘুড়ি ওড়ানোর প্রতিযোগিতা সেভাবে জমে ওঠেনি। তবে ঘুড়ি বেচাকেনা ও শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।

মেলা উদযাপন ও পূজা কমিটির সদস্য মহব্বতপুর গ্রামের মন্টু মণ্ডল বলেন, মেলাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের হলেও এটি আসলে সব ধর্মাবলম্বীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
মামুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মিলন হোসেন বলেন, এক দিনের আয়োজনে যে এত লোকের সমাগম হতে পারে, তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। মেলায় যেন অনৈতিক কর্মকাণ্ড না হয়, সে ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ক্ষেতলাল থানা ওসি মুক্তারুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং দর্শনার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে আছে। মেলায় অনৈতিক কিছু চোখে পড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×