ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

কলেজ মিলনায়তনে শিক্ষক-অধ্যক্ষের হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল

কলেজ মিলনায়তনে শিক্ষক-অধ্যক্ষের হাতাহাতি, ভিডিও ভাইরাল
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

নোয়াখালী প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৪:৩২

নোয়াখালীর কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ ও সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। শিক্ষক মিলনায়তনে সংঘটিত এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজটির প্রশাসনিক পরিবেশ, শিক্ষক-শিক্ষকদের সম্পর্ক এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগও নতুন করে সামনে এসেছে।

গতকাল শুক্রবার দুপুরে প্রায় তিন মিনিট ৫৫ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে কলেজ সূত্র জানায়, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ৯ এপ্রিল দুপুরে কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষক মিলনায়তনে নির্ধারিত আসনে বসে আছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মামুনুর রশীদ। তাঁর পাশে বসেছিলেন সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলন ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম। অফিস সহায়ক আবদুর রহিমও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে দুই শিক্ষকের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজ আসন থেকে উঠে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের দিকে এগিয়ে যান। এর পর উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি, কিল-ঘুষি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। উপস্থিত শিক্ষকরা তাদের নিবৃত করেন।

শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম বলেন, গত ২ মার্চ শিক্ষক ডরমিটরির পানির ফিল্টার নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি একাধিকবার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জানানো হলেও তা মেরামতে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ ৯ এপ্রিল বিষয়টি আবারও আলোচনায় এলে অধ্যক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর মন্তব্য করেন। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে মারামারির ঘটনা ঘটে।

সহকারী অধ্যাপক নুরুল হক মিলনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ডরমিটরির পানির ফিল্টার অচল থাকলেও কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়নি। সর্বশেষ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অধ্যক্ষ তাদের মোটরের পানি পান করার পরামর্শ দেন। এতে আপত্তি জানালে অধ্যক্ষ চেয়ার থেকে উঠে এসে তাঁর ওপর হামলা চালান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে কলেজে একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতা বেড়েছে। আর্থিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রশাসনিক নানা বিষয়ে তিনি সহকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তারা আরও বলেন, অধ্যক্ষের বিভিন্ন অনিয়ম, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে গত ১১ মে কলেজের ১১ জন শিক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৯ জুন নোয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কবিরহাট সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ বলেন, ‘যে শিক্ষকের সঙ্গে আমার মারামারির ঘটনা ঘটেছে, তিনি কি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছেন? অভিযোগ না করলে আপনারা এত আগ্রহ দেখাচ্ছেন কেন? এখানে তৃতীয় পক্ষ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে।’

তিনি আরও বলেন, কলেজের তহবিল সংকটের কারণে মাস্টার রোল­‑ভুক্ত কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে সমস্যা হচ্ছে।

কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষকদের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ ও হাতাহাতির ঘটনা শিক্ষাঙ্গনের জন্য বিব্রতকর। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। 

আরও পড়ুন

×