ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

মানববন্ধনে বক্তব্যের জেরে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ

মানববন্ধনে বক্তব্যের জেরে নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ
×

ম্যাপ

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৫:০২

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় এক মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার জেরে হাসিনা খাতুন (৫৪) নামে এক নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার সকালে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মহিষবাথান সরদারপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে তিনি মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। 

হাসিনা খাতুন ওই গ্রামের আহাদ আলীর স্ত্রী। 

ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের অভিযোগ, আগের দিন একটি মানববন্ধনে বক্তব্য দেওয়ার জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে হাসিনাকে ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে যায়। পরে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

হাসিনা খাতুন অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার তিনি গাহলী বাজারে অনুষ্ঠিত একটি মানববন্ধনে অংশ নিয়ে গণ-অভ্যুত্থানের পর তার বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, মারধর এবং জমি দখলের অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। ওই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরদিন সকালে একদল লোক তার বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর করে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে চোখ, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মরিচের গুঁড়ো লাগিয়ে দেয়। একপর্যায়ে তার ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় হাসিনার আর্তচিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলেও হামলাকারীদের ভয়ে কেউ সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারেননি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, হাসিনার মেয়ে হাফেজা খাতুন প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মহাদেবপুর থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসিনা খাতুন ও তার স্বামীকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন মুঠোফোনে অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে আমার সঙ্গে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি তাদের পারিবারিক বিরোধের বিষয়। চাচাতো-জেঠাতো ভাইদের মধ্যে বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে আমাকে হেনস্তা করার অপচেষ্টা চলছে। 

মহাদেবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি অন্য একটি মামলার তদন্তে বাইরে ছিলেন। ফিরে এসে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, এ ঘটনায় এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি।

আরও পড়ুন

×