বিচার পেতে কতদিন লাগবে, হত্যার শিকার শিশুর মায়ের প্রশ্ন
ম্যাপ
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬ | ০৫:১১
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শিশু হাফিজা (৭) হত্যার চার মাস পার হলেও মেলেনি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন। দীর্ঘ এ সময়ে মামলার কোনো অগ্রগতিও নেই। জানা যায়নি হত্যাকারী কে বা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ। হত্যার শিকার শিশুটির মা-বাবার প্রশ্ন, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে চার মাসেও যদি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না আসে তবে বিচার পেতে কতদিন লাগবে?
মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে এ ক্ষোভের কথা জানান হাফিজার বাবা সোহেল মিয়া ও মা চায়না বেগম। তারা শিশুকন্যা হত্যার বিচারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদৃষ্টি কামনা করেন। পরিবারটির দাবি শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল।
হাফিজা উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের বরটিয়া গ্রামের সোহেল মিয়ার মেয়ে। সে দেওহাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গার্মেন্টসকর্মী সোহেল মিয়া পরিবার নিয়ে কদিম দেওহাটা গ্রামের মাজাহারুলের বাসায় ভাড়া থাকতেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি নিখোঁজের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সোহেল মিয়া বলেন, ঢাকার পল্লবীতে এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাসায় গিয়ে হত্যার বিচারের আশ্বাস দেন; কিন্তু আমার মেয়ে হত্যার চার মাস পার হলেও পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের রিপোর্টও থানায় আসেনি। তাছাড়া পুলিশ এখনও ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
হাফিজার মা চায়না বেগম বলেন, ‘মেয়ে নিখোঁজের পর এক সপ্তাহেও পুলিশ ঘটনাস্থলে আসেনি। তাৎক্ষণিকভাবে তারা ব্যবস্থা নিলে আমার মেয়েকে উদ্ধার করা সম্ভব হতো।’ অপরাধীদের সঙ্গে দেওহাটা ফাঁড়ির এসআই নুরনবীরও শাস্তি দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, একটি ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসতে চার মাসের বেশি সময় লাগলে সেই পরিবার বিচার পাবে কবে?
গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে খেলাধুলার জন্য বাড়ির সামনের মাঠে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় হাফিজা। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর ১৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কদিম দেওহাটা এলাকায় বদর মিয়ার ভাড়া বাসার আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়ালে তালাবদ্ধ ঘরের ভেতর হাত-পা বাঁধা বিবস্ত্র অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মির্জাপুর থানার পুলিশ গিয়ে সুরতহাল শেষে লাশ উদ্ধার করে। এ সময় দেওহাটা ফাঁড়ির এসআই জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা নুরনবী ঘটনাস্থলে গেলে পরিবারের সদস্য ছাড়াও স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে পড়েন।
শিশু হাফিজার বাবা সোহেল মিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর শিশু কন্যাকে না পেয়ে দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে কর্তব্যরত এসআই নুরনবীকে বিষয়টি অবহিত করেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ এবং বিভিন্ন বাজে মন্তব্য করেন। ৭ ফেব্রুয়ারি রাতেই থানায় জিডি করেন। পর দিন একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে এবং তাদের কাছে শিশুটি আছে জানিয়ে ৬০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। সন্তান পাওয়ার আশায় চার হাজার টাকাও পাঠান সোহেল মিয়া। বিষয়টি এসআই নুরনবীকে জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। মরদেহ উদ্ধারের পর জড়িত সন্দেহে স্থানীয় লোকজন উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের বাইমাইল গ্রামের জালাল সিকদারের কিশোর ছেলেকে (১৭) আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে হাফিজার পরিবারের দাবির মুখে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয়।
মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার এসআই শামীম আহমেদ বলেন, মহাখালী থেকে ভিসেরা এবং টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসেনি। হাফিজার খুনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জনতার হাতে আটক বর্তমানে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা কিশোরকে তিন দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এতেও কোনো তথ্য দিতে পারেনি ওই কিশোর। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে আসামিদের চিহ্নিত এবং গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে তিনি জানান।
- বিষয় :
- শিশু হত্যা
- টাঙ্গাইল
