ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর চলার পথ দেয়াল তুলে বন্ধ
শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কের কালিবাড়িতে মানববন্ধনের সময় নারীদের আহাজারি সমকাল
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:১৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
শেরপুরের ঝিনাইগাতীর মালিঝিকান্দা ইউনিয়নের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বর্মণ সম্প্রদায়ের মানুষের যাতায়াতের পথ আটকে দিয়েছেন আবুল কাশেম নামে অবসরপ্রাপ্ত এক কলেজ শিক্ষক। ওই জমি তাঁর ব্যক্তিগত হলেও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সেখানে পাঁচ ফুট চওড়া একটি রাস্তা করে দেওয়া হয়েছিল। সেটিও তিনি বন্ধ করে দিলে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ওই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষজন।
এ ঘটনায় গতকাল শনিবার দুপুরে শেরপুর-ঝিনাইগাতী সড়কের কালিবাড়ি নামকস্থানে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী, ভুক্তভোগী পরিবারের নারী, পুরুষ ও শিশুরা। এ সময় তারা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।
জানা গেছে, চেঙ্গুরিয়া কালিবাড়ি নামকস্থানে বসবাস করেন বর্মণ সম্প্রদায়ের শতাধিক পরিবার। এরমধ্যে হতদরিদ্র ২৫টি পরিবারের লোকজন ১০৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫ ফুট প্রস্থর একটি রাস্তা দিয়ে চলাচল করতেন। স্থানীয় ভজন বর্মণ জানান, ওই সড়কের জমিসহ সেখানকার ১৫ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন আছিরউদ্দিন, মোতালেব ও হামিদ চেয়ারম্যান। তারা পাঁচ শতাংশ জমি বর্মণ সম্প্রদায়ের চলাচলের জন্য রেখে দেন। ৪০ বছর আগে ওই জমি শিক্ষক আবুল কাশেম কিনে নেন। কয়েকমাস আগে তিনি সড়ক বন্ধ করে দেন। পরে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দলের লোকজন এসে ১ শতাংশের মতো জায়গা চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। কিন্তু তিনি ঈদুল আজহার আগে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা এনে রাস্তাটি ঘিরে জমিতে দেয়াল নির্মাণ শুরু করেন।
স্থানীয় হেলাল উদ্দিন বলেন, আমাদের বাপ-দাদার আমলের আগে থেকেও এই রাস্তা দিয়ে বর্মণরা চলাচল করেন। এখানে জমির দাম বেশি না। তারপরও আমি বলেছি, স্যার যা দাম হয় আমি দিয়ে দেব। আপনি জায়গা ছেড়ে দেন। কিন্তু তিনি মানেন না।
গতকাল মানববন্ধন চলাকালে মাধবী রানী নামে এক নারী বলেন, এখন চিড়িয়াখানার প্রাণীর মতো বসবাস করছি। ছেলে-মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে পারি না। আমরা দিন আনি দিন খাই। বাড়ি থেকে বের হতে না পারলে খাব কী করে?
মালিঝিকান্দা ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের বাপ-দাদার আমল থেকে এ সড়কে বর্মণ সম্প্রদায়ের লোকজন চলাচল করেন। তারা একেবারেই নিরীহ। কোনো আইনি ঝামেলায় না গিয়ে সবাই মিলে মাত্র ১ শতাংশের মতো জায়গায় ৫ ফুটের একটি রাস্তা করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি না মেনে আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা এনে রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে দরিদ্র মানুষগুলো অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে শিক্ষক আবুল কাশেমের বাড়ি গিয়ে এবং একাধিকবার ফোন করলেও তিনি কথা বলেননি। তবে স্থানীয়দের তিনি বলেছেন, আদালতে মামলা আছে, তাই এখন তিনি কিছু করতে পারবেন না।
ঝিনাইগাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনিন্দিতা ভৌমিক বলেন, আগে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারসহ সবাইকে নিয়ে বসে কাশেম সাহেবের উপস্থিতিতে দরিদ্র মানুষের চলাচলের জন্য ৫ ফুটের একটি রাস্তা নির্ধারণ করে এসেছিলাম। কিন্তু কাশেম সাহেব সিভিল জজ আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে এসেছেন। এখন তো আমাদের কিছু করার নেই।
- বিষয় :
- মানববন্ধন
