চালু সড়ক বন্ধ করতে পুকুর ভরে হচ্ছে নতুন রাস্তা
নতুন রাস্তা নির্মাণ করতে ভরাট করা হচ্ছে ত্রিশাল উপজেলা পরিষদের পুকুরের একপাশ। গতকাল শনিবার তোলা সমকাল
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
বাসভবনের কাছে, তাই চালু সড়ক বন্ধ করে নতুন রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। এ জন্য ভরাট করা হচ্ছে পুকুরের একপাশ। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ লাখ টাকা। অথচ দুই বছর আগেই চালু রাস্তাটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়েছে। স্থানীয়রা ইউএনওর এমন পদক্ষেপ অপ্রয়োজনীয় এবং জনগণের অর্থের অপচয় বলে সমালোচনা করেছেন।
স্থানীয়রা বলেন, ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ত্রিশাল পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও নেই পর্যাপ্ত নাগরিক সুবিধা। পৌর শহরের অনেক স্থানের রাস্তা খানাখন্দে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে পাকজাহান লাইব্রেরির মোড় থেকে ইসলামী একাডেমি পর্যন্ত, ৭নং ওয়ার্ডের বেপারিবাড়ী মোড় থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত, ৮নং ওয়ার্ডের ত্রিশাল-কানিহারী সড়কের দুই কিলোমিটার সড়ক, বালিপাড়া রোড থেকে জৈমত আলী সড়কের এক কিলোমিটারের সড়ক ও সরকারি ফিসারি রোডের এক কিলোমিটারের মতো অংশ বেহাল বহুদিন।
দুই থেকে তিন বছর এসব সড়ক যানবাহন ও মানুষের চলাচলের অনুপযোগী। এসব সড়কের পাশে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নেই ড্রেনেজ ব্যবস্থা। মেরামতের অভাবে অনেক স্থানে জ্বলে না সড়কবাতি। এ নিয়ে পৌরবাসীর অভিযোগ বহু পুরোনো। তারা বলছেন, এসব সড়ক সংস্কারে কর্তৃপক্ষের কোনো মনোযোগ নেই।
জানা যায়, উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সে ইউএনওর বাসভবন ঘেঁষা পুরোনো একটি রাস্তা দিয়ে বহু বছর ধরে চলাচল করছে সরকারি নজরুল কলেজ, ত্রিশাল মহিলা কলেজ, আব্বাছিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, নজরুল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ইসলামী একাডেমি স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষজন। ছোটখাটো যানবাহন ও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে উপজেলা পরিষদ সড়ক এবং ত্রিশাল-ধানীখোলা রোডের ও সংযোগ সড়কে অনেকবার পৌরসভার বরাদ্দে সংস্কারকাজ হয়েছে। সর্বশেষ দুই-তিন বছর আগে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে ঢালাই করে ওই রাস্তাটি সংস্কা করে পৌর কর্তৃপক্ষ।
সাবেক সব ইউএনও ওই রাস্তার পাশের সরকারি বাসভবনটিতে বসবাস করেছেন নির্বিঘ্নে। তবে বর্তমান ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বাসভবনের নিরাপত্তার অজুহাতে সম্প্রতি ওই সড়ক বন্ধ করতে চাচ্ছেন। অন্যপাশ দিয়ে উপজেলা পরিষদের পুকুরের একপাশ ভরাট করে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ে আরেকটি রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেছেন তিনি। তার এ উদোগের সমালোচনা করছেন পৌরবাসী। রাস্তাটি বন্ধের প্রতিবাদে গত শুক্রবার বিকেলে বিক্ষোভ কর্মসূচিও পালন করেন স্থানীয়রা।
সোহেল মিয়া, ওমর ফারুক, হাফিজ উদ্দিনসহ স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেও সুবিধাবঞ্চিত পৌরবাসীর সমস্যার দিকে না তাকিয়ে পৌর প্রশাসক (ইউএনও) অপ্রয়োজনে জনগণের করের অর্থের অপচয় করছেন। তা না হলে, চলাচলে উপযোগী এবং গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা বন্ধ করে কেন আরেকটি রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। ওই ১৭ লাখ টাকা অন্য কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যয় করতে পারতেন তিনি।
এ বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ফয়জুদ্দিন সরকার জানান, এ রাস্তা দিয়ে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাজারো শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। উপজেলা পরিষদ জামে মসজিদে চলাচলের পথও এটি। এ রাস্তা বন্ধ হলে, নতুন রাস্তা দিয়ে অনেকটা ঘুরে চলাচল করতে হবে সবাইকে।
ত্রিশাল পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী বলেন, এ রাস্তা দিয়ে ভারি যান চলাচল করে। রাস্তার পাশেই ইউএনওর বাসভবন। দিনে-রাতে এর ভেতর দিয়ে বিভিন্ন ধরনের লোকজনের যাতায়াতে পরিষদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হচ্ছে। একটি সরকারি কর্ম ও আবাসিক এলাকায় সর্বসাধারণের সার্বক্ষণিক প্রবেশাধিকার সীমিত থাকার কথা। এ জন্য ওই রাস্তা বন্ধ করে, পুকুরের পশ্চিমপাড় দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে।
- বিষয় :
- রাস্তা
