ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

বিচারাধীন জমি থেকে উচ্ছেদ তিন পরিবার

বিচারাধীন জমি থেকে উচ্ছেদ তিন পরিবার
×

উচ্ছেদ অভিযানে বাড়ি ভাঙচুরের পর খোলা আকাশের নিচে চাষাঢ়ার তিন পরিবার সমকাল

 নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি 

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:১৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

বঙ্গবন্ধু সড়কের বিকল্প হিসেবে ২ নম্বর রেলগেট-চাষাঢ়া সড়কের চাষাঢ়া প্রান্তের মুখ খুলতে গিয়ে তিনটি পরিবারের বাড়ি ভাঙচুর ও দেড় শতাংশ জমি নিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে তারা অমানবিক অবস্থায় বসবাস করছে। জমি বিচারাধীন থাকলেও বিনা নোটিশে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

চাষাঢ়া রেললাইনের পাশের জমির বাসিন্দা জয় শংকর সিং। কয়েক প্রজন্ম ধরে তারা এখানে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এখানে আসি তখন মহিলা কলেজ ছিল না, কিছুই ছিল না। ডোবা ছিল। আমার দাদা এটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করেন।’ তিনি বলেন, ‘সিটি করপোরেশন কোনো নোটিশ দেয়নি। তাদের জানিয়েছি, জমির রেকর্ড সংশোধন মামলা চলছে। কাগজপত্র দেখাতে চাইলেও তারা দেখেনি। তিনি বলেন, তারা ভেকু লাগিয়ে ঘর ভেঙে দিল। আমাদের বাড়িটা ৫ শতাংশ।  দেড় শতাংশ জায়গা রাস্তায় নিয়ে গেছে। এখন আমরা কী করব? খোলা আকাশের নিচে থাকছি।’ 
তাঁর ভাগনে প্রকাশ পান্ডে বলেন, ‘এখানে জয় শংকর সিং, উমা শংকর সিং ও লক্ষ্মী শংকর ভৌমিকের পরিবার বসবাস করে। দেড় শতাংশ নেওয়ার পরে বাকি জায়গায় যে আমরা কোনো রকমে বসবাস করব, সেটাও পারছি না। আমাদের গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির লাইন কেটে দিয়ে গেছে। কয়েকজন কর্মকর্তা বললেন, আমাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। করপোরেশনের প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করতে বললেন। কিন্তু গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থেকেও তাঁর দেখা পাইনি। 

নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল হক দীপু বলেন, রাস্তা করতে গিয়ে কারও অধিকার যাতে হরণ না হয়, সে বিষয়টিও দেখা উচিত। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার সাবেক সভাপতি শংকর কুমার সাহা বলেন, পরিবারগুলোর সঙ্গে খুবই অমানবিক আচরণ করা হয়েছে। রেকর্ড সংশোধন মামলা চলছে মানে এ জায়গা কার, তা বিচারাধীন। সেটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এখানে নির্মাণকাজ অনুচিত। তাদের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে। 
এ ব্যাপারে জানতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক সাখাওয়াৎ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর কুতুবুল আলম জানান, প্রশাসক মহোদয় বলেছেন তাদের কাগজপত্র যদি সঠিক থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। 

আরও পড়ুন

×