ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেক

ভাসমান মঞ্চের নিচে ডুবে মৃত্যু তিনজনের

ভাসমান মঞ্চের নিচে ডুবে মৃত্যু তিনজনের
×

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:১৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে স্থাপিত ভাসমান মঞ্চের নিচে আটকে ভগ্নিপতি ও তাঁর দুই শ্যালক-শ্যালিকার মৃত্যু হয়েছে। তারা হলেন, মো. রাশেদুজ্জামান (২২), মো. গালিব হোসেন (১৮) ও সুরাইয়া আক্তার (১২)।
গতকাল শনিবার দুপুর ৩টার দিকে দক্ষিণ কদমতলী নাভানা ভূইয়া সিটি সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আদমজী ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল প্রায় ২ ঘণ্টা লেকে তল্লাশি চালিয়ে তাদের মৃতদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।  

নিহত রাশেদুজ্জামান গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থানার মনাগ গ্রামের মো. দেলোয়ারের ছেলে। আর গালিব হোসেন ও সুরাইয়া আক্তার নড়াইলের কালিয়া থানার রঘুনাথপুর গ্রামের আকরাম হোসেনের সন্তান। তারা সিদ্ধিরগঞ্জের দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে মা-বাবার সঙ্গে ভাড়া থাকত। বোন জামাই রাশেদুজ্জামান  এক সপ্তাহ  আগে এসেছেন বেড়াতে৷  
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহত ৩ জনই সাঁতার জানতেন। তারা লেকে গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটছিলেন। একপর্যায় তারা লেকে নির্মিত ভাসমান মঞ্চের ঘাটের নিচ দিয়ে ডুবসাঁতার কেটে একপাশ থেকে অন্যপাশে যান। ফিরে আসার সময় ডুব দেওয়ার পর প্রায় আধা ঘণ্টা পার হলেও আর ভেসে উঠেননি। তখন স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে আদমজী ইপিজেড ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল গিয়ে নিখোঁজদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। বিকেল ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত তল্লাশি চালিয়ে প্রথমে ভগ্নিপতি রাশেদুজ্জামান ও তাঁর শ্যালক গালিবের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর ১ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় শিশু সুরাইয়ার মৃতদেহ।

আদমজী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন মাস্টার মিরন মিয়া বলেন, লেকের পানিতে ৩ জন তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে আমাদের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বিকেল ৫টার দিকে দুজন ও ৬টার দিকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। 
ঘটনাস্থলে যাওয়া সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিজানুর রহমান বলেন, শ্যালক ও শ্যালিকাকে নিয়ে ভগ্নিপতি রাসেদুজ্জামান লেকে গোসল করতে আসেন। একপর্যায় তারা সবাই পানিতে ডুবে নিখোঁজ হন। পরে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়।
আকরাম হোসেন বলেন, ডিএনডি খালে গোসল করতে গিয়ে আমার দুটি সন্তান এবং জামাতাকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম।  এ মৃত্যুর জন্য আমার কোনো অভিযোগ নেই। 
তিনি আক্ষেপ করে আরও বলেন, ডিএনডির খালে নির্মিত  এই ভাসমান মঞ্চ ও ভাসমান ওয়াটার গার্ডেন  এর নিচে গোসল করতে গিয়ে প্রায়ই মানুষ মারা যাচ্ছে। তিনি এই মরণফাঁদ সরিয়ে ফেলার দাবি জানিয়ে বলেন, এই  মরণফাঁদে  আর যেন কোনো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে না পারে।
 

আরও পড়ুন

×