কাঁচামরিচের দাম বেড়ে দ্বিগুণ, স্বস্তি ফিরছে চাষিদের
আক্কেলপুর উপজেলার বৃহৎ কাঁচামরিচের পাইকারি বাজার তিলকপুর হাটে স্তূপ করে রাখা হয়েছে কাঁচামরিচ। ছবি: সমকাল
আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ০৯:৪৫
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে এক দিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা মরিচচাষিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
রোববার তিলকপুর হাটে কাঁচামরিচ সর্বোচ্চ ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আগের দিন শনিবার বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২৩ টাকায়। একদিনেই কেজি প্রতি ১৯ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে চাষিদের মধ্যে।
জেলাসহ উপজেলাগুলোর মধ্যে তিলকপুর হাট বৃহৎ কাঁচামরিচের পাইকারি বাজার। আশপাশের উপজেলা ছাড়াও ঢাকা, নওগাঁ, বগুড়া ও দিনাজপুরের ব্যবসায়ীরা এ হাট থেকে মরিচ সংগ্রহ করে বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন। এ কারণে এখানকার দামের প্রভাব অন্য বাজারেও পড়ে।
চলতি মৌসুমে আক্কেলপুরে মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে সরবরাহও বেশি ছিল। কয়েক সপ্তাহ ধরে মরিচের দাম ১৫ থেকে ২৩ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছিল। মৌসুমের শুরুতে আশানুরূপ দাম না পেয়ে অনেক কৃষকেরই উৎপাদন খরচ উঠাতে হিমশিম অবস্থা হয়েছে।
তিলকপুরের মরিচচাষি রেজাউল করিম এক বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছেন। সার, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে বেশ কিছু টাকা খরচ হয়েছে। এতদিন ১৫ থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করতে হয়েছে। তাতে তাঁর খরচই উঠছিল না। রোববার হঠাৎ দাম বেড়েছে। হাটে ৩০ কেজি মরিচ এনেছিলেন। সবই ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।
আরেক চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, মৌসুমের শুরুতে মরিচের বাজার খুব খারাপ ছিল। ২০ টাকা কেজি দরে মরিচ বিক্রি করে লোকসান গুনতে হয়েছে। গতকাল তিলকপুর হাটে ৫৩ কেজি মরিচ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছি। পরে দাম আরও বেড়ে ৪২ টাকায় ওঠে। এভাবে দাম পেলে লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
তিলকপুর বাজারের পাইকার রুস্তম আলী সমকাল প্রতিবেদককে বলেন, আজ হাটে মরিচের আমদানি কিছুটা কম ছিল। সে কারণে দাম বেড়েছে। এতে কৃষকের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে মরিচের দাম না পেয়ে হতাশ ছিলেন কৃষকরা। সেই হতাশা কেটেছে।
- বিষয় :
- জয়পুরহাট
