পোস্টে লাইক দেওয়া নিয়ে মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল
প্রতীকী ছবি
সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ২১:১০ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ | ২১:৫৭
ফেনীর সোনাগাজীতে ফেসবুক পোস্টে লাইক দেওয়া নিয়ে এক মাদ্রাসাছাত্রকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ‘টিআর-২৬’ নামের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা তাকে মারধর করে। নির্যাতনের সেই ভিডিও এখন সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল।
ভুক্তভোগী জহিরুল ইসলাম মারুফ (১৫) লক্ষ্মীপুর রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণির ছাত্র। সে উপজেলার উত্তর লক্ষ্মীপুর এলাকার জাফর উল্যার ছেলে।
এই ঘটনায় গত রোববার রাতে মারুফের বাবা বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। এতে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আসামিরা হলো- অনয় পাটোয়ারী (১৭), মো. জিসান (১৭), মো. স্বপ্নীল (১৬), হাবিব খোন্দকার (২৫), শরীফ চৌধুরী মুন্না (২০), মো. তুরান (১৫) ও মো. রাহুল (১৬)। তারা সবাই স্থানীয় কিশোর গ্যাং ‘টিআর-২৬’ এর সদস্য।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় দেড় মাস আগে ‘টিআর-২৬’ গ্যাংয়ের অপকর্ম নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করা হয়। মারুফ সেই পোস্টে লাইক দেওয়ায় গ্যাংয়ের সদস্যরা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। গত ৩০ এপ্রিল দুপুরে সে বখতারমুন্সি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা দেখতে যায়। সেখান থেকে অনয় ও জিসানের নেতৃত্বে ১২-১৫ জন কিশোর তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। তাকে তাকিয়া রোডের একটি নির্জন ধানখেতে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ কিল, ঘুষি ও লাথি মারা হয়। কিশোরেরা পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে মারুফকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
মারুফ বিষয়টি পরিবারকে না জানিয়ে স্থানীয় ফার্মেসি থেকে চিকিৎসা নেয়। তবে গত শনিবার রাতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ভিডিওটি তাদের গ্রুপে শেয়ার করে। এরপর সেটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন কিশোর মিলে এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে ধরে মারধর করছে। ছেলেটি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ভিডিওটি দেখে মারুফের পরিবার ঘটনাটি জানতে পারে। এরপর তারা থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় ‘টিআর-২৬’ সহ বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। তারা রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়ায় এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার কারণে এদের অপরাধ দিন দিন বাড়ছে।
সোনাগাজী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুর রহমান মামলার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি সমকালকে বলেন, রোববার রাতেই আসামিদের ধরতে বক্তার মুন্সি ও ডাকবাংলা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়েছে। তবে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে আসামিরা পালিয়ে যায়। কিশোর গ্যাং দমনে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
