ঢাকা সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সীমান্তে হত্যা-পুশইনে জামায়াত জোটের বিক্ষোভ, ভারতের সমালোচনা

সীমান্তে হত্যা-পুশইনে জামায়াত জোটের বিক্ষোভ, ভারতের সমালোচনা
×

জামায়াত জোটের বিক্ষোভ

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ জুন ২০২৬ | ২২:৩০ | আপডেট: ১৫ জুন ২০২৬ | ২২:৩১

সীমান্তে হত্যা এবং বাংলাদেশে ভারতীয়দের ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। কর্মসূচি থেকে জোটের নেতারা ভারত, দেশটির সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদির কড়া সমালোচনা করেন। ভারতকে যথাযথ জবাব না দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারেরও পররাষ্ট্র নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেও সমালোচনা করেন তাঁরা। 

পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সোমবার রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ করে ১১ দল। এর আগে গত শনিবার দেশের সীমান্তবর্তী জেলা এবং অঞ্চলগুলোতে বিক্ষোভ করেছিল জামায়াত জোট। ১১ দলের ব্যানারে কর্মসূচি হলেও, খেলাফত আন্দোলন সপ্তাহ দুই আগে জোট ত্যাগ করায় কার্যত ১০ দলের জোটে পরিণত হয়েছে। 

শাহবাগ মোড়ে কয়েক হাজার মানুষের সমাবেশ করে জামায়াত জোটে। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল প্রেস ক্লাব হয়ে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধের দাবিতে এতে জোটের হাজারো নেতাকর্মী যোগ দেন। মিছিলের কারণে শাহবাগ থেকে মৎস্যভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে অফিস ফেরত যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। 

বিক্ষোভ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন,  বাংলাদেশের জনগণ কোনো আধিপত্যবাদী আগ্রাসনের কাছে মাথানত করেনি, করবে না। 

১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমেদ, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাগপা সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, নেজামে ইসলাম পার্টির জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির আব্দুল বাতেন আনসারী, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আলী কাসেমী, বাংলাদেশ বিডিপির চেয়ারম্যান এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চাঁন, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশিরসহ ১১ দলের নেতারা। 

গোলাম পরওয়ার বলেন, লাল-সবুজ পতাকার ভূখণ্ড রক্ষায় জনগণ ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। সীমান্তবর্তী ৩২ জেলার জনগণ পুশইন রুখে দিতে বিজিবিকে সহযোগিতায় প্রস্তুত। 

প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারত আগ্রাসী আচরণ করছে অভিযোগ করে জামায়াত সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয় এবং বন্ধুত্বে বিশ্বাসী। কিন্তু কেউ যদি বন্ধুত্বের বেশে দাদাগিরি করতে চায়, তবে এদেশের জনগণ সেটি মেনে নেয় না, নেবে না। সীমান্ত সমস্যা সমাধানে ন্যায্যতা ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক চাই। 

ভারতের সীমানা, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি বাংলাদেশ শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, একই সম্মান ভারত দেখাতে পারেননি। ফ্যাসিস্ট হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিন্নের বার্তা দিয়েছে। শহীদ ওসমান হাদির খুনিকে আটকের পরও বাংলাদেশে ফেরত না দিয়ে চুক্তি ভঙ্গ করেছে। 

ভারত মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে অভিযোগ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, অভিন্ন দেশের স্বপ্ন ১৯৪৭ সালে ভারত ভঙ্গ করেছিল। তারা মুসলিম কার্ড খেলা করে মুসলমানদের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। 

নাসীর বিএনপি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, যদি মুজিববাদের পথে হাঁটেন, তবে আবারও মুজিববাদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। 

জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, সীমান্তে ভারত প্রতিদিন হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, পুশইন করছে। জনগণ উদ্বিগ্ন হলেও আমাদের সরকার উদ্বিগ্ন নয়। সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলছে, এটি সীমান্ত হত্যা নয়! তাহলে সীমান্ত হত্যা কাকে বলে তা স্পষ্ট করুক সরকার। 

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশের জনগণের বোঝা দরকার সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের নামে যা ঘটছে, তা স্বাধীনতার ওপর হুমকি। 

ভারতের উদ্দেশে এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক বলেন, দাসত্বের আওয়ামী লীগ এদেশে আর ফিরবে না। এদেশের মানুষ বিপ্লবী, প্রতিবাদী। সীমান্ত হত্যা ও পুশইন বন্ধ না করলে এদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াবে। 

মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের দালাল হলেই নিয়োগ দেওয়া হয়; নাকি নিয়োগ পাওয়ার পর এরা দালাল হয়ে যায়? পররাষ্ট্রমন্ত্রী কথা বলছেন দীপু মনির ভাষায়, হাসান মাহমুদের ভাষায়। শেখ হাসিনাকে পুশইন করার দাবি জানান তিনি। 

রাশেদ প্রধান বলেন, বাংলাদেশ সরকার নতজানু পররাষ্ট্রনীতি গ্রহণ করায় ভারত সুযোগ পেয়েছে। বিএনপি মদিনা সনদে দেশ পরিচালনা করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এখন মোদির সনদে দেশ চালাচ্ছে। যারাই মোদির সনদে চলেছে তাদের ঠিকানা ভারতে হয়েছে।  

সভাপতির বক্তব্যে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন সরকারও ভারতীয় সেবাদাস সরকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে না পারলে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ভারত চলে যান।

আরও পড়ুন

×