ঢাকা রোববার, ১৪ জুন ২০২৬

আমিরের নির্দেশ অমান্য

‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে বিশৃঙ্খলা

দুই জেলা কমিটি বাতিল

‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে বিশৃঙ্খলা
×

ফাইল ছবি

 রাজীব আহাম্মদ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০২৬ | ০৮:৪৫ | আপডেট: ১৪ জুন ২০২৬ | ১০:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তাদের কেউ দলীয় পদ বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতে পারবেন না। করলে তা অযোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হবে। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৮০ বছর দলটির নেতাকর্মীরা তা মেনে চললেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বেশ কিছু নেতার মধ্যে এই নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। সাংগঠনিক নিয়ম অমান্যের ফলে ‘বড় দল’ হয়ে উঠতে চাওয়া জামায়াতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে শুরু করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় জামায়াতের তিন প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সব নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়। তার পরও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলসমর্থিত প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে ‘লবিং’ করছেন তৃণমূলের নেতারা। 

এই প্রবণতা নিয়ে কথা বলেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি গত ১৬ মে রংপুরে দলীয় নেতাকর্মীর উদ্দেশে বলেছেন, ‘আমাকেই জনপ্রতিনিধি হতে হবে– এ রকম চিন্তা যদি কারও মাথায় আসে, তাহলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবেন।’

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু সাঈদ খান সমকালকে বলেন, জামায়াত এত বছর ছিল একটি ক্যাডারভিত্তিক রেজিমেন্টেড দল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে না থাকায় প্রধান দুই দলের একটিতে পরিণত হয়েছে জামায়াত। এতে দলটির দ্রুত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধি হয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে অতীতে জামায়াত থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহী মানুষ কম থাকলেও এখন তা বাড়ছে। এতে বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় অনুশাসন ভাঙার প্রবণতা বাড়ছে।

জামায়াত আগের মতোই ক্যাডারভিত্তিক দল থাকলে ক্ষমতায় যেতে পারবে না, আবার ক্ষমতায় যেতে সবার জন্য দল উন্মুক্ত করলে আদর্শিক দল থাকতে পারবে না বলে মনে করেন আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, বাজার দখল নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মারামারি; আধিপত্য বিস্তারের জন্য সংঘর্ষ হচ্ছে। এগুলো প্রচলিত দলে পরিণত হওয়ার লক্ষণ। আবার আগের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে গেলে ছোট দল হয়ে থাকতে হবে। ক্ষমতায় যেতে পারবে না। জামায়াত এই টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে।
 
ক্যাডারভিত্তিক দল নাকি বড় দল 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা তাদের জন্য একেবারেই নতুন। কীভাবে এর মোকাবিলা করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। সংসদের ৬৮ আসনে জয়ী জামায়াত, আগামীতে ক্ষমতায় যেতে পারে– এ ধারণা থেকে অনেকেই দলে যোগ দিতে চান; স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে চান। কিন্তু তারা জামায়াতের আদর্শ কতটা মেনে চলবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারা আদর্শ নয়, ক্ষমতার অংশ হতে দলে আসতে চান। 

জ্যেষ্ঠ নেতারা সমকালকে বলেছেন, যদি জামায়াতে প্রবেশের সুযোগ আগের মতোই ‘দাওয়াতি কার্যক্রম’নির্ভর হয়, তাহলে নির্বাচনমুখী দল হয়ে ওঠার মতো কর্মী বৃদ্ধি পাবে না। আবার সবার জন্য দলে দরজা উন্মুক্ত করলে শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাবে না। আগের মতো ক্যাডারভিত্তিক থাকলে ১৭-১৮ আসনের ছোট দল থাকতে হবে। ক্ষমতায় যেতে চাইলে সবার জন্য উন্মুক্ত হতে হবে। তাদের দায়ও নিতে হবে।

জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আবদুল হালিম স্বীকার করেন, জাতীয় নির্বাচনে কিছু সমস্যা হয়েছে। তবে স্থানীয় নির্বাচন নির্দলীয় হওয়ায় কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। একটি পদের জন্য দলের একজনকে সমর্থন জানানো হবে। এর বিরুদ্ধে যে যাবেন, শাস্তি পাবেন। শৃঙ্খলার প্রশ্নে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। 

জামায়াতে নেতা-প্রার্থী হওয়ার কী নিয়ম
জামায়াতে সরাসরি কেউ যোগ দিতে পারেন না। প্রথমে তাদের দৃষ্টিতে উপযুক্ত ব্যক্তিকে সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করানো হয়। তারপর তাঁকে দলের দেওয়া ধর্মীয় ও রাজনৈতিক বই পড়তে হয়। এতে উত্তীর্ণ হলে একজন সহযোগী সদস্য কর্মী হন। কর্মীকে রুকন (সদস্য) হতে নামাজ, অধ্যয়ন, কোরআন পাঠ এবং দলের কাজের রিপোর্ট রাখতে হয়। রুকন সিলেবাসের ৩৭টি বই পড়তে হয়। কোরআন তিলাওয়াত শুদ্ধ হতে হয়। জামাতে নামাজ আদায় করতে হয়। আরও কয়েকজনকে কর্মী বানাতে হয়। এরপর তিনি রুকন হতে পারেন। তারপর তিনি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নসহ বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব পান।

জামায়াতের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংগঠনের মতো জেলা, মহানগর, উপজেলা, পৌরসভার আমিররা রুকনদের গোপন ভোটে নির্বাচিত হন। স্থানীয় সংগঠনেও কর্মপরিষদ ও মজলিসে শূরার সদস্যরা নির্বাচিত হন। তবে এসব নির্বাচনে কেউ প্রার্থী হতে পারেন না। নিজের বা অন্য কারও জন্য ভোট চাইতে পারেন না। দলের সব রুকনই প্রার্থী, সবাই ভোটার। রুকনরা গোপন ভোটে এসব পদে নির্বাচিত করেন। কর্মপরিষদের পরামর্শে সেক্রেটারিসহ অন্যান্য পদে নেতাদের দায়িত্ব দেন আমির। নির্বাচনে প্রার্থীও একইভাবে ঠিক করা হয়। দলের অনুমোদন ছাড়া কেউ নিজেকে নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা ও প্রচার চালাতে পারেন না। 

‘বড় দল’ হতে নিয়ম শিথিল
জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, ৫ আগস্টের পর এই নিয়ম ভেঙে যাচ্ছে। গত সংসদ নির্বাচনের আগে দেখা গেছে, বাছবিচার ছাড়াই সহযোগী সদস্য পূরণ করে দলে নেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে সব আসনে জামায়াত জয়ী হওয়া একটি জেলার আমির সমকালকে বলেছেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে যাদের দলের সহযোগী সদস্য বানানো যায়নি, মাসিক ১০০ টাকা চাঁদা (ইয়ানত) পাওয়া যায়নি, একটি মিছিলের জন্য বারবার ডেকে আনা যায়নি– তারা এখন উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে তদবির করছেন। দলের অনুমতি ছাড়াই নিজেকে প্রার্থী ঘোষণা করে পোস্টার লাগাচ্ছেন। মানাও করা যাচ্ছে না, কারণ তারা জাতীয় নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করেছেন।

সম্প্রতি নোয়াখালীতে এক তরুণ তিনটি অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই তরুণকে জামায়াতের কর্মী বলে দাবি করেছেন বিএনপি নেতারা। কারণ, জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী বোরহানউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে বেগমগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির মো. আবু জায়েদ নির্বাচনের প্রচারের সময় ওই তরুণ এসে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থীর সঙ্গে ছবি তুলেছিলেন। 

জামায়াতের একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনের সময়ে কারা কারা প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন, তা অতীতের মতো যাচাই-বাছাই করা হয়নি। ভোটে জিততে সবাইকে প্রচারে নেওয়া হয়েছিল। এদের অনেকের অতীত ও বর্তমান কর্মকাণ্ডের দায় এখন জামায়াতকে নিতে হচ্ছে। 

গত ২০ মে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পানহাটা বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে আহত স্থানীয় জামায়াত নেতা সামিউল ইসলাম ১০ দিন পর মারা যান। তিনি পৌর জামায়াতের অফিস সম্পাদক ছিলেন। সাংগঠনিক তদন্তের পর কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতারা বলেছেন, ওই সংঘর্ষে জড়ানোর কারণ ছিল না। দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মতো বাজারের ইজারা নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। 

এমপি ঘিরে বলয়
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য এবং অল্প ব্যবধানে হেরে যাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে এলাকায় স্থানীয়ভাবে ‘সমান্তরাল’ সংগঠন তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। একাধিক নেতা সমকালকে বলেছেন, একটি আসনে ভোটে জিততে আট-দশ হাজারের বেশি কর্মী-সমর্থকের বাহিনী লাগে। কিন্তু একটি আসনে রুকন, কর্মী, সহযোগী সদস্য মিলিয়ে জামায়াতের জনবল খুব বেশি হলে এক হাজার। বাকিরা সরাসরি দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। অতীতে জামায়াত ৩০-৩৫টি আসনে নির্বাচন করত। ফলে দলীয় কর্মী কিংবা জোটের মিত্র দল বিএনপির সংগঠনের মাধ্যমে নির্বাচন পরিচালনা করতে পারত। এবার নিজেই ছিল বিএনপি প্রতিপক্ষ জোটের প্রধান দল। তাই বিএনপিবিরোধী সবাইকে নিতে হয়েছে। তারা এখন জামায়াত এমপিদের ঘিরে দলের বাইরে বলয় তৈরি করছেন।

সম্প্রতি সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান উল্লাপাড়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন পরিষদের ১২টিতে দল-সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন বাঙ্গালা ইউনিয়নে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা আবু হানিফ এবং বড়পাঙ্গাসী ইউনিয়নে যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা সাদ্দাম হোসেন। তারা সংসদ নির্বাচনের আগে জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে যোগ দিয়ে আওয়ামী লীগ ও যুবদল থেকে বহিষ্কার হয়েছেন। এ ইউনিয়নে জামায়াত প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। অতীতে যারা এ দুই ইউনিয়নে জামায়াতের রাজনীতি করেছেন, তাদের বাদ দিয়ে নতুন আসা দুজনকে সমর্থন দিতে যাচ্ছে দলটি। 

শাস্তিতেও কাজ হচ্ছে না ‘বলয়ের’ কারণে
সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-১ আসন জোট শরিক নেজামে ইসলাম পার্টিকে ছেড়ে দিয়েছিল জামায়াত। কিন্তু জামায়াতের জেলা আমির তোফায়েল আহমদ শেষ পর্যন্ত প্রার্থিতা প্রত্যাহারের করেননি। নেতাকর্মীর চাপ রয়েছে দাবি করে নির্বাচনে থেকে যান।

একই চিত্র ছিল নরসিংদী-২ আসনে। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে আসনটি ছেড়ে দেওয়া হলেও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আমজাদ হোসেন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। তাঁকে জামায়াত আমির ঢাকায় ডাকলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে এনসিপির পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন। কিন্তু নির্বাচনের সাত দিন আগে নেতাকর্মীর চাপের কথা বলে ভোটের মাঠে নামেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসন কেন্দ্রীয়ভাবে এনসিপিকে ছেড়ে দেওয়া হলেও জামায়াত প্রার্থী ডা. মো. আবু নাছের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। জামায়াত আমিরের নির্দেশ অমান্য করে ভোটে থেকে যান। তিনি বোয়ালখালী উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ছিলেন। 

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যোবায়ের সমকালকে বলেন, শৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ছাড় নেই– এই বার্তা দিতে শুধু প্রার্থী নন, সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বাতিল করা হয়েছে। কমিটির প্রত্যেক নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। নতুন কমিটি দেওয়া হয়নি। সাংগঠনিক অঞ্চল দায়িত্বশীলরা দেখভাল করছেন। চট্টগ্রামের প্রার্থীর রুকনিয়াত বাতিল করে বহিষ্কার করা হয়েছে। 

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে বহিষ্কার হয়েছেন জেলা জামায়াতের সাবেক আমির জসিমউদ্দিন। তিনি জামায়াতের ইতিহাসে প্রথম বিদ্রোহী প্রার্থী। কুমিল্লা-৭ আসনে দুই সম্ভাব্য প্রার্থীর সমর্থকরা মারামারি করায় শাস্তি হিসেবে আসনটি জোটকে ছেড়ে দিয়েছিল জামায়াত।

গতকাল শনিবার পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে মাগুরা জেলা জামায়াতের আমির এমবি বাকেরকে। তাঁকেও শাস্তি দেওয়া হয়েছে নির্বাচন-সংক্রান্ত কারণে। 
স্থানীয় নির্বাচনেও এ রকম বিরোধ-বিদ্রোহের শঙ্কা রয়েছে কিনা– প্রশ্নে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সমকালকে বলেন, মানুষ হিসেবে অনেকের মধ্যে পদের জন্য আকাঙ্ক্ষা তৈরি হতে পারে। এটিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দলীয় শৃঙ্খলা প্রশ্নে কোনো ছাড়া দেওয়া হবে না। তাতে যদি জামায়াত তথাকথিত বড় দল হতে না পারে, তবুও নয়।

আরও পড়ুন

×