বন্ধুতা
প্রবাসে দুর্ঘটনা, তরুণকে ফেরানোর আকুতি
মালয়েশিয়ার কারখানায় দুর্ঘটনার শিকার সাকিবুরের জন্য অর্থ সংগ্রহে নেমেছেন তাঁর বন্ধুরা। গতকাল বুধবার কোটচাঁদপুর পৌর শহরের আমবাজার সড়কে সমকাল
কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৮:০৫ | আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৮:২২
| প্রিন্ট সংস্করণ
অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে দালালের মাধ্যমে ছেলে সাকিবুর রহমানকে (১৯) ২০২৫ সালে কম্বোডিয়া পাঠিয়েছিলেন আকলিমা খাতুন। ভালো কাজ না পাওয়ায় সেখানে ভয়াবহ দুর্ভোগের শিকার হতে হয় এই তরুণকে। সাত মাসের কষ্ট শেষে আরেক দালালকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে চলতি বছরের মে মাসে তিনি যান মালয়েশিয়া। একটি কাচের কারখানায় কাজও জোটে। তবে ভাগ্য সহায় হয়নি এই তরুণের। গত রোববার (১৪ জুন) মেশিনে তাঁর শরীরের বাঁ পাশ চাপা পড়ে।
সাকিবুর রহমান ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের বলাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা। এই গ্রামের উত্তরপাড়ার ফজলুর রহমান-আকলিমা খাতুন দম্পতির ছেলে তিনি। ফজলুর রহমান ঢাকার একটি ওষুধ কোম্পানিতে বাবুর্চি হিসেবে কর্মরত। সম্পদ বলতে তাদের বাড়ির পাঁচ শতক জমি। সেখানে টিনের ছাউনি আর বেড়া দিয়ে তৈরি ঘরে বসবাস পরিবারটির।
সাকিবুরের বন্ধু ও কয়েকজন প্রতিবেশীকে গতকাল বুধবার পাওয়া যায় কোটচাঁদপুর পৌর শহরের আমবাজার সড়কে। তারা দানবাক্স ও ফেস্টুন হাতে পথে পথে এই তরুণের জন্য সহায়তা খুঁজতে বেরিয়েছেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন সাকিবুরের বড় ভাই পেশায় ফ্রিজ মেকানিক হাসিবুল রহমান। তাদের দেওয়া তথ্যমতে, গত রোববার বিকেলে তারা দুর্ঘটনার খবর জানতে পারেন। পরিবারের অবস্থা যেহেতু ভালো নয়, তাই তারা সবাই মিলে টাকা সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। জনসাধারণের অর্থসহায়তায় সাকিবুরকে দেশে ফিরিয়ে চিকিৎসা করানোর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন তারা। পাশাপাশি বিত্তবান মানুষ ও সরকারের প্রতি এ বিষয়ে সহায়তার আকুতি জানান তারা।
এদিন বিকেলে বলাবাড়িয়া উত্তরপাড়ার বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায় সাকিবুরের মা আকলিমা খাতুনকে। তিনি জানান, নানা এনজিও এবং মানুষের কাছ থেকে সুদে টাকা নিয়ে ছেলেকে কম্বোডিয়া পাঠান। সেখানে সাত মাস ভালো কাজ পাননি। মানবেতর জীবন কাটাতে হয়। আরেক দালালকে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে তাঁকে মালয়েশিয়া পাঠানো হয়। এ জন্য বন্ধক রাখতে হয়েছে একমাত্র সম্বল ভিটেটুকু। এর মধ্যে কারখানায় দুর্ঘটনায় পড়ে তাঁর ছেলে এখন জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে। তাদের এমন কোনো আর্থিক সংগতি নেই যে ছেলের চিকিৎসা করিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে পারবেন। এ জন্য দেশবাসী ও সরকারের কাছে সহায়তা কামনা করেন তিনি।
এ বিষয়ে ইউএনও দীপা রানী সরকারকে জানানো হয়েছে। তবে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি।