বর্জ্য অপসারণ বন্ধ ১২ দিন দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ মানুষ
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬ | ০৮:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভায় টানা ১২ দিন ধরে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাসাবাড়ি, হাটবাজার, দোকানপাট, সড়ক ও খোলা জায়গায় জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন পৌরসভার লাখো বাসিন্দা। বিশেষ করে আম, কাঁঠাল, লিচু ও আষাঢ়ি ফলের উচ্ছিষ্ট পচে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, তারাবো পৌরসভার বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ ও অপসারণের দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম পালন করছিলেন। তিন বছরের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন এ দায়িত্ব পান। তবে কার্যাদেশ পাওয়ার পর এখনও মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু না হওয়ায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন দেখা যায়, পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে বাসাবাড়ির সামনে বস্তা ও ড্রামে জমে থাকা ময়লা উপচে পড়ছে। কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে এবং খোলা জায়গায় আবর্জনার স্তূপ তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির পানি ও রোদের তাপে এসব বর্জ্য দ্রুত পচে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী বাবুল হোসেন বলেন, আমরা নিয়মিত টাকা দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ময়লা অপসারণ বন্ধ রয়েছে। রাস্তার পাশে ময়লার স্তূপের কারণে এলাকায় বসবাস করাই কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
বরাবো এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, পৌরসভার অধিকাংশ মহল্লা এখন ছোটখাটো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
তারাবো বাজার এলাকার ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বাদল বলেন, প্রতিটি বাড়িতে ময়লা জমে আছে। বাজার এলাকাতেও দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতা কমে গেছে। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শামীমা আক্তার বলেন, ঘরের সামনে ময়লা জমে থাকায় শিশুদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। দুর্গন্ধে জানালা-দরজা খুলে রাখা যায় না।
নবনিযুক্ত ঠিকাদার আলতাফ হোসেন বলেন, আমি সম্প্রতি কার্যাদেশ পেয়েছি। বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত ভ্যান ও জনবল প্রস্তুত করতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রস্তুতির কাজ প্রায় শেষ। আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে পুরোদমে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হবে। পৌরবাসীর সাময়িক ভোগান্তির জন্য আমরা দুঃখিত।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও তারাবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা জানিয়েছে প্রয়োজনীয় যানবাহন প্রস্তুতের কাজ চলছে। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শুরু না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে টেন্ডার বাতিল করে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করা হবে।
- বিষয় :
- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা