লাইভে কেঁদেছিলেন, অবশেষে ছাত্রদলে পদ পেলেন সেই নয়ন
আহসান উল্লাহ নয়ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ১৯:৩২ | আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ | ২১:১৬
কমিটিতে পদ না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। সেই ছাত্রদল কর্মী আহসান উল্লাহ নয়ন অবশেষে মূল্যায়ন পেয়েছেন। ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের নবঘোষিত ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটিতে তাকে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বর্ধিত কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ। পদপ্রাপ্ত আহসান উল্লাহ নয়ন ময়মনসিংহের সদর উপজেলার ভাবখালি ইউনিয়নের আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি মুক্তাগাছা উপজেলার শহীদ স্মৃতি সরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
যেভাবে আলোচনায় এসেছিলেন নয়ন
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাতে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের ২৯৮ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আজিজুল হাকিম আজিজকে সভাপতি ও রাকিব হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। সেই কমিটিতে পদ না পেয়ে ওই রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নয়ন। লাইভে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা এত দিন আন্দোলন-সংগ্রাম, হরতাল কইরা কমিটিতে আসতে পারলাম না। ৫ আগস্টের পরের লোক আইনা আপনারা কমিটিতে বসাইছেন। আওয়ামী লীগের সাথে লাখ লাখ ছবি থাকা সত্ত্বেও তাদেরকে কমিটিতে দেওয়া হয়েছে। আমরা জীবন-যৌবন সব ধ্বংস করে ফেললাম এই ছাত্রদলের জন্য।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল করার কারণে তিনি নৌবাহিনীর চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। গায়ে ‘জঙ্গি’ তকমা লাগানো হয়েছে। স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে সক্রিয় থেকেও মূল্যায়ন না পাওয়ায় সেদিন ছাত্রদল ছেড়ে দেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি। নয়নের সেই কান্নার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

পদ পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় নবগঠিত কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আহসান উল্লাহ নয়ন বলেন, পদবঞ্চিত হওয়ার দিন আমার অভিভাবক ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার বলেছিলেন, ‘রাজনীতিতে শেষ বলতে কিছু নেই, পড়ে গেছো উঠে দাঁড়াও’।
এ বিষয়ে ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম বলেন, আগের কমিটি ঘোষণার পর অনেক যোগ্য ও ত্যাগী কর্মী বাদ পড়েছিলেন। আমরা বঞ্চিত কর্মীদের একটি তালিকা তৈরি করে ৫৫ সদস্য বিশিষ্ট বর্ধিত কমিটির জন্য কেন্দ্রে আবেদন জানাই। কেন্দ্রীয় কমিটি সেই বর্ধিত কমিটির অনুমোদন দিয়েছে।
