ধারের টাকা ফেরত চাওয়ায় প্রবাসী জামাইকে গাছে বেঁধে মারধর
ছবি: সংগৃহীত
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ২২:২৮
প্রবাস থেকে পাঠানো টাকা ও সেই টাকায় কেনা জমি বুঝে নিতে গিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এক ব্যক্তি। তাঁকে নারিকেল গাছের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় চাচা শ্বশুর আসাদ আলীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার সকালে নালিতাবাড়ী থানায় শ্বশুড়সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী প্রবাসীর স্ত্রী মরিয়ম বেগম। এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াবিল ইউনিয়নের বাদলাকুড়া গ্রামে জামাইকে শিকলে বেঁধে মারধরের ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, বাদলাকুড়া গ্রামের মহর উদ্দিনের মেয়ে মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে সোরহাব হোসেন বাবুর বিয়ে হয়। সোরহাব হোসেন দীর্ঘ ১৭ বছর প্রবাসে থাকাকালীন বিভিন্ন সময়ে শ্বশুর মহর উদ্দিনকে জমি কেনার জন্য ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধার দেন। পরবর্তীতে আরও দেড় লাখ টাকা দেন শ্বশুরকে। বৃহস্পতিবার পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গেলে শ্বশুর মহর উদ্দিনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শ্বশুরপক্ষের লোকজন সোরহাব হোসেনকে আটক করে শিকল দিয়ে নারিকেল গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সোরহাব হোসেনকে উদ্ধার করে। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে নয়াবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, জামাইয়ের কাছ থেকে ঘরবাড়ি করার জন্য টাকা নিয়েছেন শ্বশুর। সেই টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য জামাই পরিষদে লিখিত অভিযোগ দিলে তাদের বসার জন্য বারবার তাগিদ দেন তিনি, কিন্তু তারা বসেন না। পরে তিনি শুনেছেন টাকা চাওয়ায় জামাইকে তারা বেঁধে মারধর করছেন। বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, এই ঘটনায় প্রবাসীর স্ত্রী বাদী হয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। ইতোমধ্যেই একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
