ঢাকা শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

নওগাঁর সুস্বাদু আমে সন্তুষ্ট জাপান, রপ্তানির আশা

নওগাঁর সুস্বাদু আমে সন্তুষ্ট জাপান, রপ্তানির আশা
×

নওগাঁ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ২২:১১

নওগাঁর পোরশা উপজেলায় রপ্তানিযোগ্য আম বাগান পরিদর্শন করেছেন জাপানের আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি প্রতিনিধি দল। বাগান পরিদর্শন শেষে নিরাপদ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আম উৎপাদন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা। পাশাপাশি তারা বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ আম আমদানির ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

শুক্রবার পোরশার বন্ধুপাড়া এলাকার ৫০ বিঘা জমির ওপর গড়ে ওঠা ‘ফ্রুটস মিউজিয়াম অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামে বাগানটি ঘুরে দেখেন তারা। ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূতের নির্দেশনায় এবং জাপান দূতাবাসের আমন্ত্রণে এই প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ থেকে আম আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করতে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ অঞ্চলের বাগানগুলো পরিদর্শন করছে।

পরিদর্শনকালে জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দলের সদস্য কাওয়ামতু বলেন, জাপানে আমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের আম রপ্তানির বিভিন্ন ধাপ ও মান যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। সবকিছু সন্তোষজনক হলে ভবিষ্যতে জাপান বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আম আমদানি করবে।

তিনি বলেন, আমরা জেনেছি নওগাঁর আম অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট। উত্তম কৃষিচর্চা (গ্যাপ) অনুসরণ করে উৎপাদিত আমের গুণগত মান আমাদের মুগ্ধ করেছে। তাজা ও সুস্বাদু এই আম আমরা জাপানের ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।

প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ব্যবসায়ী সাকাকিবারা, ইশিমটু ও শিগিমরি। তাদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের আম রপ্তানিকারক আবু সাঈদ। শুধু আম বাগানই নয়, এই দলটি দেশের বিভিন্ন এলাকায় আম গ্রেডিং, সর্টিং ও শোধনকেন্দ্রও পরিদর্শন করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আম প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি সক্ষমতা যাচাই করা তাদের মূল উদ্দেশ্য।

পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা বাগানের আম্রপালি, বারি-৪, কাটিমন, ব্যানানা ম্যাংগোসহ বিভিন্ন জাতের আমগাছ ঘুরে দেখেন এবং চাষাবাদ পদ্ধতি, পরিচর্যা ও রোগবালাই ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ নেন।

গ্যাপ সনদপ্রাপ্ত এই বাগানের মালিক রায়হান সিদ্দিক জাপানি প্রতিনিধি দলকে উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন। তিনি জানান, গত কয়েক বছর ধরে নওগাঁ থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আম রপ্তানি হচ্ছে। গত বছর থেকে চীনের বাজারেও বাংলাদেশের আম প্রবেশ করছে। চলতি মৌসুমে প্রথমবারের মতো জাপানের বাজারে দেশের আম রপ্তানির বড় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি সফল হলে চাষিরা আরও বেশি লাভবান হবেন এবং দেশের রপ্তানি আয় বাড়বে।

স্থানীয় আমচাষি সালাউদ্দিন বলেন, কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই যদি সরাসরি বাগান থেকে জাপানে আম রপ্তানি করা যায়, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ চাষিরা ন্যায্যমূল্য পাবেন। 

চার হাজার কোটি টাকার আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা
পোরশা উপজেলা কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সেলিম রেজা জানান, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকির মাধ্যমে নিরাপদ আম উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। জাপানি প্রতিনিধি দল উৎপাদন ব্যবস্থা ও আমের মান দেখে অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলার ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির আম বাগান থেকে প্রায় চার লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আমের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। উৎপাদন, গুণগত মান এবং রপ্তানি সক্ষমতার কারণে দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা হিসেবে নওগাঁ ক্রমেই আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলছে।

আরও পড়ুন

×