ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আরও নিঃসঙ্গ মমতা, এবার তৃণমূল ছাড়লেন সাবেক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়

আরও নিঃসঙ্গ মমতা, এবার তৃণমূল ছাড়লেন সাবেক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয়
×

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ছবি: সংগৃহীত

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ২৩:১০

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের পর রাজনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটির ভবিষ্যৎ ও সাংগঠনিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে যখন তিনি ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন, ঠিক তখনই দলের জাতীয় কর্মসমিতিসহ সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

নির্বাচনে ভরাডুবির পর সম্প্রতি তৃণমূলের সাংগঠনিক স্তরে বড় রদবদল করা হয়েছিল। সেই সময় ‘বালু’ নামে পরিচিত এই প্রবীণ নেতাকে দলের জাতীয় কর্মসমিতিতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা দেওয়া হয়। তবে সিদ্ধান্তের এক সপ্তাহ পার হতে না হতেই দলীয় সব পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন তিনি।

দলীয় প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পদত্যাগের কারণ হিসেবে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন। চিঠিতে তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী বর্তমানে তাঁর সম্পূর্ণ বিশ্রামের প্রয়োজন এবং কোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক চাপ নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতেই তিনি দলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যপদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চান।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই দলের অন্যতম বিশ্বস্ত ও সক্রিয় সহযোগী ছিলেন। ২০১১ সাল থেকে পরপর তিন মেয়াদে হাবড়া আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন এবং এর আগে গাইঘাটা আসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি পশ্চিমবঙ্গের খাদ্য ও খাদ্য সরবরাহ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তী সময়ে বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। বিশেষ করে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় গত দুই দশক ধরে তৃণমূলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

রেশন দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) হাতে গ্রেপ্তার হওয়া সত্ত্বেও বিগত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে হাবড়া আসনে পুনরায় প্রার্থী করেছিলেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে প্রত্যাখ্যান করায় বিজেপি প্রার্থীর কাছে তিনি পরাজিত হন।

তৃণমূলের এই সাংগঠনিক বিপর্যয় কেবল জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকেই সীমাবদ্ধ নেই; বরং দলটিতে ব্যাপক ভাঙনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত শুক্রবার শিলিগুড়ি পৌরসভার মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রবীণ নেতা গৌতম দেব। এর পাশাপাশি গত দুই দিনে নবদ্বীপ, আলিপুরদুয়ার, ব্যারাকপুর, বহরমপুর ও উত্তর দমদমের প্রায় ৩০টি পৌরসভার চেয়ারম্যান এবং দুই শতাধিক কাউন্সিলর পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে দুর্নীতি মামলায় অশোকনগর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রবোধ সরকারসহ বেশ কয়েকজন নেতা ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং অনেক নেতাকর্মী বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন।

টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পদত্যাগকারী নেতাদের একাংশের মতে, নির্বাচনে চূড়ান্ত পরাজয়ের পরও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় স্বীকার না করার জেদ সাধারণ মানুষের কাছে নেতিবাচক বার্তা দিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে চলতি বছরের শেষ ভাগে আসন্ন ১২৮টি পৌরসভার নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস তীব্র প্রার্থী সংকটে পড়বে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে এক বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে।

আরও পড়ুন

×