ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সংবাদ সম্মেলনে মালিক সমিতি

রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিংয়ে অভিন্ন শুল্ককর চান ব্যবসায়ীরা

রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিংয়ে অভিন্ন শুল্ককর চান ব্যবসায়ীরা
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ২২:৫১

বাজেটে রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সার্ভিসের ক্ষেত্রে একই শুল্ককর এবং নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত উৎসে কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। শুক্রবার রাজধানীর বিজয়নগরে সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরা হয়। 

লিখিত বক্তব্যে সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতে ব্যয় অনেক বেড়েছে, যা এই খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছে। কিন্তু সংকট থেকে উত্তরণে এ খাতকে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আগের মতো প্রতি মাসে ভ্যাট আদায় করার প্রস্তাব দিয়ে ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং খাতের জন্য ভ্যাট ও করহার সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সার্ভিসে ১৫ শতাংশ দিতে হয়। বিভিন্ন শ্রেণির রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট ও কর আরোপের ফলে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় বৈষম্য সৃষ্টি হয় এবং কর প্রশাসনও জটিলতা তৈরি করে। পাশাপাশি স্ট্রিট ফুডসহ সব ধরনের রেস্তোরাঁকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে চলমান অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। 

এই ব্যবসায়ী আরও বলেন, বাজেটে জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর এবং ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর আরোপ জনসাধারণের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

ইমরান হাসান বলেন, বাজেটে ঢাকার বাইরে রেঁস্তোরা ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন রেঁস্তোরার স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ওপর প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ অবচয় সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব ইতিবাচক। এতে নতুন উদ্যোক্তারা কর রেয়াত পাবেন। তবে রেঁস্তোরা খাতের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ নিশ্চিত করা দরকার। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে কর কাঠামোকে সহজ ও স্বচ্ছ করা, ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমানো এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।

তিনি বলেন, এ ছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট পরিশোধের সময় বাড়িয়ে তিন মাস করার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে আগের মতো মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা বহাল রাখার প্রস্তাব করছি আমরা।

ইমরান হাসান বলেন, বর্তমানে রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য ১০ থেকে ১২টি সংস্থার অনুমোদন নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে ব্যবসা পরিচালনা এবং কার্যকর তদারকি বাধাগ্রস্ত হয়। এ জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা দরকার। এর মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ হবে, সময় ও ব্যয় কমবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কার্যকর মনিটরিং সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে উদ্যোক্তারা জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। সে জন্য রেস্তোরাঁ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি ঘোষণার দাবি জানান তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×