কুড়িগ্রামে বাড়ছে তিস্তা-ধরলার পানি, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল
ছবি: সমকাল
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ১৭:০৪
উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামে তিস্তা ও ধরলা নদীর পানি বেড়েছে। এতে তিস্তা অববাহিকার বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং কৃষিজমিতে পানি ঢুকে পড়ায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রোববার দুপুর ১২টায় কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার মাত্র ৩১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার অন্যান্য নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও সেগুলো এখনো বিপৎসীমার অনেক নিচে রয়েছে।
পাউবো জানিয়েছে, আগামী পাঁচদিন পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে ধরলা, ব্রহ্মপুত্র ও দুধকুমার নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনও বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৩৫টি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।
রাজারহাট উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চলের শরিষাবাড়ি ও বুড়িরহাট এলাকায় বাদাম, পাটসহ বিভিন্ন ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। আকস্মিক পানি বৃদ্ধিতে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বুড়িরহাট এলাকার কৃষক মো. সাজু মিয়া বলেন, ‘গত রাত থেকে হঠাৎ তিস্তার পানি বাড়ায় আমার ৫০ শতক জমির বাদামখেত পানির নিচে চলে গেছে। পানি না কমলে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
জেলা সদরের পাঁচগাছী ইউনিয়নের শুলকুর বাজার এলাকার কৃষক এরশাদ আলী বলেন, ‘ধরলা নদীর পানি বাড়তে থাকায় আমার এক বিঘা সবজিখেতে পানি উঠেছে। পানি আরও বাড়লে পুরো ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ‘আগামী কয়েকদিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনাও রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
- বিষয় :
- প্লাবিত
- তিস্তার পানি
