জুলাই চেতনা বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ হতাশাজনক: সুজন
বক্তব্য রাখছেন বদিউল আলম মজুমদার
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬ | ১৮:০৭
বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের কার্যক্রম ইতিবাচক হলেও গত চার মাসে জুলাই চেতনা বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ হতাশাজনক বলে মন্তব্য করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংগঠনটি বলছে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাইয়ের চেতনার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বললেও তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে জড়তা, সংশয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে অবজ্ঞার পরিচয় দিচ্ছে।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘বর্তমান সরকারের চার মাস: প্রত্যাশা, অর্জন ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন।
সংগঠনটির মতে, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) ভিত্তিতে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন কিংবা জাতীয় সাংবিধানিক পরিষদ (এনসিসি) প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ইস্যুতে সরকারের নীরবতা উদ্বেগজনক। সরকারের এই অবস্থানকে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় না। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।
সমাপনী বক্তব্যে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুসরণ করলে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে। তবে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে ১৯৭২ সালের সংবিধানের অনেক বিষয় কার্যত পরিবর্তিত হয়ে গেছে।
গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনব্যবস্থার সমালোচনা করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সেই সময়ে দেশে একটি স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে জনগণের ভোটাধিকার, বাক্স্বাধীনতা ও মানবাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়ে এবং প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ বিস্তার লাভ করে।’
তিনি বলেন, ওই দুঃসহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি এবং রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যেই গণ-অভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। জনগণ একটি পরিবর্তিত রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত চেয়েছিল। সেই প্রত্যাশা থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এসেছে।
সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, পুরোনো পথে চলতে থাকলে নতুন গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব নয়। বরং একই পথে হাঁটলে শেষ পর্যন্ত আবারও পুরোনো গন্তব্যেই ফিরে যেতে হবে।
বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তিনটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, সরকার কি জুলাই সনদের রাজনৈতিক ও নৈতিক তাৎপর্য স্বীকার করেছে? দ্বিতীয়ত, সনদ বাস্তবায়নের জন্য কোনো সময়সীমা, অগ্রাধিকার তালিকা কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নির্ধারণ করেছে কি? তৃতীয়ত, সরকারের কর্মকাণ্ড জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, নাকি ক্ষমতা গ্রহণের পর পুরোনো রাজনৈতিক আচরণের পুনরাবৃত্তি ঘটছে?
প্রবন্ধে বলা হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ সরকারের পক্ষ থেকে দেখা যায়নি। জুলাই সনদ কিংবা গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও রাজনৈতিক সৌজন্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এ পরিস্থিতি উদ্বেগের।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন—রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক সাজ্জাদ সিদ্দিকী, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম এবং তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুর প্রমুখ।
- বিষয় :
- সুজন
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান
