মাজারের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬ | ২১:২৫
হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেছেন, তিনি (ডিসি) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা সেদিকেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করব। মাজারের আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিতে সরকার কোনো ধরনের ছাড় দেবে না বলেও জানান তিনি।
চারদিনের সফরে আজ বুধবার বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান মন্ত্রী। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাজারের অর্থ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন তিনি।
মাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে টাকা গণনার পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করব এবং সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করব।
নিজের সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের কথা উল্লেখ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আমার আলাপ হয়েছে। আমরা সবাই এ বিষয়ে একমত। মাজার নিয়ে মানুষের যে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, তা পূরণে খুব তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে গত রোববার জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের আদেশ দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এই বদলিকে মাজার ইস্যুর সঙ্গে মেলাতে নারাজ মন্ত্রী। তিনি বলেন, বদলির বিষয়টা একটি রুটিন ওয়ার্ক। এটি সম্পূর্ণ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয় এবং এই ঘটনার সঙ্গে এর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এই বদলি স্বাভাবিক নিয়মেই আগে কিংবা পরেও হতে পারত।
মাজার ইস্যু ছাড়াও সম্প্রতি কাতারে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের ৫ প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, নিহতদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের সরকারি সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের ফলাফল জুলাইয়ের মধ্যে দৃশ্যমান হবে এবং ওই সময়ের মধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে সুখবর আসতে পারে বলেও তিনি জানান।
মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সফরটি অত্যন্ত সফল ও ফলপ্রসূ হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকার ও জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা এবং দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার ফলে শ্রমবাজার ও জনশক্তি রপ্তানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী জুলাই মাসের মধ্যে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ সফর করবেন এবং চলমান বিভিন্ন বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি জনগণ দেখতে পাবেন।
ওসমানী বিমানবন্দরের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, প্রবাসীদের সেবার মান উন্নয়নে বিমানবন্দরে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ, অসুস্থ এবং বিশেষ সহায়তাপ্রার্থী যাত্রীদের জন্য লাগেজ ব্যবস্থাপনা, সহায়ক সেবা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি প্রবাসীরা যাতে বিমানবন্দরে কোনো ধরনের হয়রানি বা অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সে লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহারকারী বিপুলসংখ্যক প্রবাসীর সুবিধা বিবেচনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, রাতের ফ্লাইটে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতকরণ এবং বিমানবন্দরে শিশুদের জন্য ‘কিডস জোন’ স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
- বিষয় :
- সিলেট
- প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী
