লামায় ম্রো পাড়ার ১৮ পরিবারে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব
লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ডায়রিয়া রোগীদের একাংশ সমকাল
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৭:২৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম ম্রো পাড়াসহ পাহাড়ি এলাকাগুলোতে ডায়রিয়ার ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। হঠাৎ করেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। গত কয়েক দিনে উপজেলার ৬ নম্বর রূপসীপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম ছুমপং হেডম্যান ম্রো পাড়ার ১৮টি পরিবারের নারী, শিশুসহ প্রায় সবাই এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার ৫০ শয্যার লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর ধারণক্ষমতা পেরিয়ে যাওয়ায় অনেক ডায়রিয়া রোগী হাসপাতালের মেঝেতেই চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
ছুমপং হেডম্যান ম্রো পাড়ার বাসিন্দা ও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মেনপ্রে ম্রো জানান, তাদের পাড়ায় ১৯টি পরিবারের বসবাস। এর মধ্যে ১৮টি পরিবারের সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। গত সপ্তাহে তারা বিভিন্ন সময়ে লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। তাদের মধ্যে অনেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও বর্তমানে পাড়াটির মা, শিশুসহ ১৩ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বাসিন্দা নাইক্ষ্যং মৌজা হেডম্যান ছুংপং ম্রো জানান, বর্ষা মৌসুমে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। ফলে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা পাহাড় বেয়ে আসা ঝিরি ও ঝরনার ঘোলা পানি পান করেন। মূলত এই দূষিত পানি পানের কারণেই ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তিনিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দারা দুর্গম এলাকার এই স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
লামা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোলেমান আহমেদ জানান, জুন-জুলাই মাসের এই সময়ে পাহাড়ি এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়। স্থানীয়রা ঝরনার ঘোলা ও দূষিত পানি পান করার কারণেই বিভিন্ন ম্রো পাড়াসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ছুমপং হেডম্যান ম্রো পাড়া থেকে ভর্তি হওয়া রোগীদের হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। অনেকেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং বর্তমানে যারা চিকিৎসাধীন, তাদের সুস্থতায় মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৬ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ঘটনাস্থলে গেলে তারা আরও ২৫ জন ডায়রিয়া রোগীকে শনাক্ত করেন। তাদেরও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- অসুখ