নির্মাণকাজ শেষ না করেই পুরো বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৬ | ০৭:৩৬
| প্রিন্ট সংস্করণ
নান্দাইলের ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণ এবং ১৬টির সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শেষ না করেই পুরো বরাদ্দ তুলে নিয়ে গেছেন ঠিকাদাররা।
টাকা পেয়ে কাজে অনীহা থাকায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং এলজিইডি অফিসের তাগাদার পরও কাজ শেষ করছেন না ঠিকাদার। তবে ঠিকাদারদের দাবি, বাকি কাজ দ্রুত শেষ করে দেবেন।
নান্দাইল উপজেলা স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তথ্যমতে, এই উপজেলায় ১৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফটকসহ ইটের গাঁথুনির ওপর গ্রিলের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য এর আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়। প্রতিটি সীমানা প্রাচীর নির্মাণে বরাদ্দ ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা। এসব কাজ শেষ করার কথা ছিল ২০২৩-২৪ অর্থবছরে। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও শেষ হয়নি কাজ। কোথাও ফটকের কাজ শুরু করাই হয়নি।
স্থানীয় এলজিইডি অফিসের তত্ত্বাবধানে উপজেলার ৩০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের জন্য পৃথক অফিস কক্ষ নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২২-২৫ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রতিটি কক্ষ নির্মাণকাজ দুই বছর আগে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু ওই দুটি প্রকল্পের অধিকাংশ কাজের বরাদ্দের টাকা যোগসাজশ করে তুলে নিয়ে গেছেন ঠিকাদাররা। অভিযোগ উঠেছে, একই ঠিকাদার একাধিক কাজ পাওয়ার কারণে এমনটি হয়েছে।
গত সোম ও মঙ্গলবার ওইসব বিদ্যালয়ে গিয়ে কাজ বাকি থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে। দত্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ অর্ধেক করে ফেলে রাখা হয়েছে। ফটক নির্মাণকাজ এখনও শুরুই করা হয়নি।
প্রধান শিক্ষক সাবিহা সুলতানা দিতি জানান, বরাদ্দ তুলে নেওয়ার বিষয়টি জানেন না তিনি। তবে কাজটি দীর্ঘদিন ধরে ফেলে রাখা হয়েছে।
পুরহরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফটক নির্মাণ হলেও তাতে রং, গ্রিল লাগানো হয়নি। সামনে অর্ধসমাপ্ত প্রাচীরে সবুজ শেওলার স্তর পড়লেও পেছনে বাকি রয়েছে। প্রধান শিক্ষক আতিকুর রহমান ফকির জানেন না বরাদ্দ তুলে নেওয়ার ঘটনা।
অরণ্যপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর ও ফটক নির্মাণকাজ শেষ। বিল তুলে নিয়ে গেলেও গ্রিল লাগানো হয়নি। প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন কাজ শেষ না করে ঠিকাদারের বিল তুলে নেওয়ার ঘটনা জানেন না বলে দাবি করেছেন। একই অবস্থা কানুরামপুর, চন্ডীপাশা মডেল, চরকামটখালী উত্তর ও জাহাঙ্গীরপুর বালুয়া পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
অন্যদিকে ৩০টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণকাজও শেষ হয়নি। মিশ্রিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, তার কাজ শেষ হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরাদ্দের ২২ লাখ ২১ হাজার টাকার মধ্যে ঠিকাদার ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলে নিয়ে গেছেন।
হরিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ নির্মাণকাজ তিন বছরেও শেষ হয়নি। ঠিকাদার টাকা তুলে নিলেও জানেন না প্রধান শিক্ষক বেগম নুরুন্নাহার। তাঁর ভাষ্য, ঠিকাদারসহ বিভিন্ন জায়গায় বলেও কাজ শেষ করাতে পারছেন না।
কাদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বরাদ্দ ২২ লাখ ৫৪ হাজার টাকা তুলে নিলেও কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। এ ছাড়া নান্দাইল রোড, বীরঘোষপালাসহ বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্মাণকাজ অসমাপ্ত পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে।
১০টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কক্ষ এবং ৪টি সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছেন ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম। ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘কাজ শেষ করেই বিল নিয়েছি। যেখানে যতটুকু কাজ বাকি রয়েছে তা আগামী সাত দিনের মধ্যে শেষ হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াসের ভাষ্য, এখানে যোগদানের পরই কাজ শেষ না করে অধিকাংশ প্রকল্পের বরাদ্দ তুলে নেওয়ার বিষয়টি তাঁর চোখে পড়ে। অথচ দুই বছর আগেই এসব কাজ শেষ করার কথা। তারপরও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।
- বিষয় :
- নির্মাণকাজ