ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকার দুই জায়গায় জামায়াত এমপি বাচ্চুর মেয়ের নাম
নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের (বাচ্চু)
নড়াইল সংবাদদাতা
প্রকাশ: ২৭ জুন ২০২৬ | ২০:০৫ | আপডেট: ২৭ জুন ২০২৬ | ২০:১৬
নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের (বাচ্চু) ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার দুই জায়গায় তার এক মেয়ের নাম পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার রাতে এমন একটি তালিকা সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার পর শনিবার তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। এমপি বলেন, ‘যারা হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন তাদের জন্য আমার অফুরন্ত দোয়া।’
ভাইরাল ওই চিঠিতে লেখা ছিল, সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্দকৃত ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিদের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো। চিঠির সঙ্গে অনুদান পাবেন এমন ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ সারিবদ্ধভাবে উল্লেখ রয়েছে।
ওই তালিকায় দেখা যায়, ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’। দুটি নামের পাশে বাবার নামের স্থলে লেখা যথাক্রমে মো. বাচ্চু ও মো. আতাউর। দুটি নামের পাশে টাকার পরিমাণের ঘরে ১০ হাজার টাকা করে উল্লেখ করা হয়েছে। ফাইজা সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে প্রচারিত হতে থাকে। এ ছাড়া তালিকায় নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্যের নিজের ইউনিয়নের (হবখালী) এবং লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাত জনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া এলাকার বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার বিকেলে সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া তালিকাটিকে সঠিক বলে সমকালকে নিশ্চিত করেন সংসদ সদস্য আতাউর রহমান। তার দাবি, তালিকার কাজটি করেছেন তার ব্যক্তিগত সচিব (পিএস)।
তিনি বলেন, একজন এমপি জনকল্যাণমূলক কাজের জন্য অর্থবছরে ৫লাখ টাকা ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল পেয়ে থাকে। আমি যেদিন শপথ নিয়েছি সেদিন থেকে এই অর্থ বছরে হিসাব করলে নড়াইল ২ আসনে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা পেয়েছেন। সেই টাকা নেওয়ার জন্য সংসদ সচিবালয়ে নামের তালিকা আগে জমা দিতে হয়। আমি এলাকায় ব্যস্ত থাকার মধ্যে পিএস ফোন দিয়ে জানায় আজকের দিনের মধ্যে নামের তালিকাসহ ডিও জমা দিতে হবে। আমি তাকে বলি, ‘তুমি সব ইউনিয়ন থেকে তালিকা সংগ্রহ করে জমা দাও। তখন সে জানায়, অফিস থেকে বলেছে এখন কিছু পরিচিত নাম দিয়ে এটা তুলে নিতে হবে পরে বিভিন্ন সময়ে বিতরণ করে প্রকৃত তালিকা আপনারা সংরক্ষণ করতে পারবেন। তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড ঢাকায় পিএসের কাছে ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, প্যাডে তুমি একটা তালিকা রেডি করে জমা দিয়ে দাও, তোমার চেনাজানাদের দিয়ে। সেই চেনাজানা জায়গাগুলোয় আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি ধরে ফেলেছে আরকি। সেটা ধরে সে তালিকা দিয়েছে।’
আতাউর রহমান বলেন, কিন্তু এখন দেখছি সামাজিকমাধ্যমে অনেক কিছু লেখা। টাকা হাতে পাওয়ার পর এই অর্থবছর শেষ হলে অন্যান্য অনুদানের মতো প্রকৃত তালিকা নড়াইল-২ আসনের জনগণ জানতে পারবে। যারা হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য চেষ্টা করছেন তাদের জন্য আমার অফুরন্ত দোয়া।
তিনি বলেন, নির্বাচনের পূর্বেও আপনাদের অনেকের অপপ্রচারের কারণে আল্লাহ আমার পরিচিতি অনেক বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। জনগণের হকের একটি পয়সাও আমি বা আমার পরিবারের কেউ আগামী ৫ বছরে ছুঁয়ে দেখবে না বলেও জানান এই সংসদ সদস্য।
জামায়াতের এমপি আরও বলেন, আজকের মধ্যে একটি তালিকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পাঠানো হবে। সেই তালিকা অনুযায়ী অনুদানের তালিকা দেওয়া হবে।
- বিষয় :
- নড়াইল
- জামায়াতে ইসলামী
- এমপি
