ইতালিতে ৩ বাংলাদেশি খুনের নেপথ্যে যা জানা যাচ্ছে
নিহত কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু , কন্যা আরিফা। ডানে- অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬ | ১৪:৪১
ইতালির রাজধানী রোমে এক বাংলাদেশি দম্পতি ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় আহত হয়েছেন নিহত দম্পতির ছেলে।
শুক্রবার রাত ৯টার দিকে রোমের পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিও সড়কের একটি অ্যাপার্টমেন্টে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিরাজ মিয়ার নতুন বাড়ির বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে কামাল উদ্দিন বাবুল (৪৫), তার স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজু (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আরোরা ইসলাম আরিশা। আহত হয়েছেন তাদের ছেলে আরাফাত হোসেন অয়ন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেনের বাড়িও চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে, নিহত বাবুলের বাড়ির পাশের এলাকায়। সে সূত্রে বাবুলদের বাড়িতে শাহাদাতের যাতায়াত ছিল। সেই যাতায়াতের সূত্র ধরেই বাবুলের স্ত্রী মমতাজ বেগম আরজুর সঙ্গে শাহাদাতের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে স্থানীয়দের দাবি।
জানা যায়, তিন সন্তানের বাবা শাহাদাত প্রায় চার বছর আগে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে ইংল্যান্ডে যান। সেখানে দাম্পত্য কলহের জেরে স্ত্রী তাকে তালাক দেন এবং তার বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই মামলায় কারাভোগের পর প্রায় দুই বছর আগে তিনি ইতালিতে যান। সেখানে রোমে বাবুলের অ্যাপার্টমেন্টের পাশেই একটি বাসা ভাড়া নেন এবং পুনরায় বাবুলের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিহত বাবুলের জেঠাতো ভাই, ঢাকার জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ সুমন জানান, শুক্রবার রাতে বাবুলের অ্যাপার্টমেন্টের পাশের একটি পার্কে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের বিষয়টি মীমাংসার জন্য বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় শাহাদাত উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে বাবুল বাসায় ফিরে গেলে শাহাদাত তার অ্যাপার্টমেন্টে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাবুল, তার স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করেন। এ সময় ছেলে আরাফাত হোসেন অয়ন ঘটনাস্থলে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে শাহাদাত পালিয়ে যান।
ইউনুছ সুমন সমকালকে আরও জানান, 'শাহাদাত এলাকায় বেপরোয়া প্রকৃতির ছিল। বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল। দেশে থাকতেই আমার চাচাতো ভাই বাবুলের স্ত্রীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। চার বছর আগে সে সম্পত্তি বিক্রি করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে লন্ডনে যায়। পরে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় এবং মামলায় কারাভোগের পর ইতালিতে গিয়ে আবার বাবুলের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে।'
তিনি আরও বলেন, 'ইতালির রোম পুলিশ শাহাদাতকে মোস্ট ওয়ান্টেড হিসেবে শনাক্ত করেছে। আমরা এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।'
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সামছুদ্দিন হায়দার বলেন, 'আজ থেকে প্রায় চার বছর আগে শাহাদাত স্ত্রী-সন্তান নিয়ে লন্ডনে চলে যান। এরপর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল তাকে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব পদ থেকে অব্যাহতি দেয়।'
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, 'সে চার বছর আগে লন্ডনে চলে গেছে। তাকে আমাদের দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেউ নয়।'
