ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

আলুর দাম বাড়লেও লাভে বাধা হিমাগারের বাড়তি ভাড়া

আলুর দাম বাড়লেও লাভে বাধা  হিমাগারের বাড়তি ভাড়া
×

বগুড়া ব্যুরো

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বিদ্যুতের বিল বাড়ার কারণ দেখিয়ে বগুড়ার হিমাগার মালিকরা এবার আলু সংরক্ষণের ভাড়া বস্তাপ্রতি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা নির্ধারণ করেছেন। তবে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা ৩০০ টাকার বেশি ভাড়া দিতে রাজি নন। ভাড়া কমানো না হলে গত বছরের মতো এবারও লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা তাদের। এ নিয়ে হিমাগার মালিক ও আলুচাষি-ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় ৬০ হাজার ৪৩৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টন। মৌসুমে আলুর দাম নেমে আসে কেজিপ্রতি ৮ থেকে ১০ টাকায়। এরপর টানা বৃষ্টিতে প্রায় দুই লাখ টন আলু পচে যায়। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে বর্তমানে আলুর দাম বেড়ে কেজিপ্রতি প্রায় ৩৫ টাকায় উঠেছে। গত বছর এ সময়ে আলুর দাম ছিল গড়ে ২০ টাকা।

জেলায় ৪৮টি হিমাগারে প্রায় পৌনে চার লাখ টন আলু সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকলেও উৎপাদিত আলুর একটি বড় অংশ নষ্ট হওয়ায় এবার তিন লাখ টনের বেশি আলু সংরক্ষণ সম্ভব হয়নি। 
গত বছর প্রতি বস্তা (৬৫ কেজি) সংরক্ষণে ভাড়া ছিল ৩০০ টাকা। এবার বিভিন্ন হিমাগারে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হচ্ছে। মহাস্থান আগমনী হিমাগার বস্তাপ্রতি ৪০০ টাকা এবং এরুলিয়ার আফরিন কোল্ড স্টোরেজ ৩৮০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করেছে।
আফরিন কোল্ড স্টোরেজের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, ‘১ জুন থেকে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও পরিচালন ব্যয় বাড়ায় বস্তাপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকা ভাড়া বাড়াতে হয়েছে। তা না হলে আমাদেরও লোকসান হবে।’

শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক এলাকার কৃষক আসাদুল হক বলেন, ‘টানা বৃষ্টিতে প্রায় ১৫০ মণ আলু নষ্ট হয়েছে। যে আলু হিমাগারে রাখতে পেরেছি, তার জন্যও ৪০০ টাকা করে ভাড়া 
চাওয়া হচ্ছে। এতে আলুর দাম বাড়লেও আমাদের লাভ হবে না।’
মহাস্থান এলাকার কৃষক রেহেদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অল্প পরিমাণ আলু সংরক্ষণ করি। ভাড়া এত বেশি হলে খরচই ওঠে না। ভাড়া ৩০০ টাকার মধ্যে রাখতে হবে।’
বগুড়া জেলা আলুচাষি ও ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘কোল্ড স্টোরেজ মালিকদের একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। প্রতি বস্তা আলু সংরক্ষণে প্রকৃত খরচ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা হলেও কোথাও ৩৫০, কোথাও ৪২০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী–দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
জেলা কোল্ড স্টোরেজ মালিক সমিতির সহসভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি ও পরিচালন ব্যয় বেড়েছে। সে অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করা 
হয়েছে। ভাড়া কমালে হিমাগার পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।’
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বগুড়ার জ্যেষ্ঠ কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোরশেদ আল মাহমুদ বলেন, ‘চাষি ও ব্যবসায়ীদের দাবি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি মাসের মধ্যেই একটি সিদ্ধান্ত হবে। এরপর হিমাগারগুলো কত ভাড়া নিতে পারবে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন

×