ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সংঘর্ষে নারী নিহতের জের

বিবাদীদের বাড়িতে হামলা, জানে না বাদীপক্ষ

বিবাদীদের বাড়িতে হামলা, জানে না বাদীপক্ষ
×

ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বনগাঁওয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিবাদীপক্ষের বসতবাড়ি। ছবিটি গতকাল বুধবার তোলা সমকাল

 ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২০

| প্রিন্ট সংস্করণ

ছাতকের ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বনগাঁওয়ে সংঘর্ষে এক নারী নিহতের ঘটনায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় মামলার পরও বিবাদী পক্ষের বাড়িঘরে বাদীপক্ষের হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ কথা অস্বীকার করেছেন মামলার বাদী।

গত ৭ জুন মোরগের চিৎকারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। যার মীমাংসা চলাকালে গ্রাম পঞ্চায়েতের উপস্থিতিতেই দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে আহত আছিয়া বেগম নামে এক নারী চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুদিন পর সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এ ঘটনায় গত ১১ জুন নিহত আছিয়া বেগমের স্বামী আব্দুর রহমান ছটু বাদী হয়ে ২৬ জনকে আসামি করে ছাতক থানায় হত্যা মামলা করেন। ইতোমধ্যে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ওই নারীর মৃত্যু এবং মামলার পর থেকে বিবাদীপক্ষের বসতবাড়িতে বাদীপক্ষের লোকজন একের পর এক হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি হামলার পাশাপাশি একাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের খবর জানা গেছে। এ নিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে গোটা গ্রামজুড়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, এ ঘটনার সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকলেও প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হচ্ছেন অনেকেই। আইনের ওপর আস্থা না রেখে তারা নিজেরাই আইন হাতে তুলে নিচ্ছে। মামলার দুদিন পর থেকেই আসামিপক্ষের বাড়িঘরে লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
আরেক বাসিন্দা জানান, থানায় মামলার পর থেকে অনেক নিরীহ নারী-পুরুষ গ্রেপ্তারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার গতকাল বুধবার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে ক্ষয়ক্ষতি চিত্র তুলে ধরেন। সরেজমিন বনগাঁও গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আসামিপক্ষের পাকা বসতঘরের দরজা-জানালা নেই, টিনের চালা ও দেয়াল ভাঙচুর করা হয়েছে। একইভাবে আক্রান্ত হয়েছে আশপাশের আরও কয়েকটি পরিবার, যারা এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

স্থানীয়রা বলছেন, গ্রেপ্তার আতঙ্কে আসামিরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে রয়েছে।  সেই সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের গরু-ছাগল, ধান-চাল, আসবাব, দরজা-জানালা, চালের টিনসহ প্রায় কোটি টাকার মালপত্র লুটে নিয়ে গেছে। তবে হত্যা মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামি থাকায় এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি গ্রামের লোকজন।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার সফিক মিয়াসহ কয়েকজন জানান, তারা বাড়িঘরে ভাঙচুরের চিহ্ন দেখেছেন। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তারা দেখেননি। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুর রহমান ছটু পক্ষের দাবি, সংঘর্ষের পর তারা আহতদের চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার জের ধরে হামলার ঘটনায় মূলত বাদী পক্ষের লোকজনই দায়ী। তারা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালাচ্ছে। মামলার ভয়ে অনেকেই ঘরছাড়া। এই সুযোগ নিয়ে মূল দোষীদের পাশাপাশি নিরীহ ব্যক্তিরাও তাদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গোটা গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করলেও প্রশাসনের কোনো নজরদারি নেই।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×