ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

ঐতিহ্যের আলফাত স্কয়ার এখন পথচারীর বিড়ম্বনা

ঐতিহ্যের আলফাত স্কয়ার এখন পথচারীর বিড়ম্বনা
×

হকারের দখলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের আলফাত স্কয়ারের ফুটপাত। গতকাল বুধবার তোলা সমকাল

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়ক মোড় আলফাত স্কয়ার (সাবেক ট্রাফিক পয়েন্ট) এখন ইজিবাইক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবৈধ স্ট্যান্ডে পরিণত হয়েছে। চারপাশের ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দোকানপাট এবং মূল সড়কে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে এই ঐতিহাসিক চত্বরটি এখন সাধারণ মানুষের জন্য অবর্ণনীয় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ বিশিষ্ট রাজনীতিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আলফাত উদ্দিনের স্মরণে এই মোড়টির নামকরণ করেছিলেন ‘আলফাত স্কয়ার’। এক সময় চত্বরটি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক আন্দোলন ও সমাবেশের চত্বর হিসেবে পরিচিত ছিল, তা এখন ছোট যানবাহনের দখলে। শহরের জনসংখ্যা ও যানবাহনের চাপ বাড়ায় এই মোড়টি আরও প্রশস্ত করার দাবি দীর্ঘদিনের হলেও কর্তৃপক্ষের ঢিলেঢালা ভাবের কারণে তা আলোর মুখ দেখছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, থানা মোড় থেকে আলফাত স্কয়ার পর্যন্ত ফুটপাতের বড় অংশজুড়ে ফল, সবজি, পোশাক ও বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। ফলে পথচারীদের ফুটপাত ছেড়ে মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হচ্ছে। এছাড়া মূল সড়কেই দুই-তিন সারিতে অটোরিকশা ও ইজিবাইক দাঁড় করিয়ে রাখায় শহরের প্রবেশমুখ খামারখালের ব্রিজ পর্যন্ত সার্বক্ষণিক জট লেগে থাকে। আলফাত স্কয়ার থেকে কালীবাড়ি সড়কের দুই পাশেও একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সড়কের প্রায় ৭০ ভাগই অবৈধ দখলদার ও যানবাহনের কব্জায় রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে চলতে হয়, এতে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।
সড়কে ব্যবসা করা এক হকার জানান, জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই তাঁরা এখানে বসেন। তবে প্রশাসন থেকে নির্দিষ্ট হকার্স মার্কেট বা বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলে তাঁরা সেখানে চলে যেতে রাজি আছেন।
শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জগৎজ্যোতি পাবলিক লাইব্রেরির সাধারণ সম্পাদক খলিল রহমান বলেন, সড়কগুলো এমনিতেই সরু। এর ওপর সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। পৌরসভা ও প্রশাসন সমন্বিতভাবে শক্ত ব্যবস্থা না নিলে এই যানজট দূর করা সম্ভব নয়।

বিষয়টি জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও তুলে ধরেছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও অতিরিক্ত পিপি শেরেনুর আলী। তিনি বলেন, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারকেও অনুরোধ করেছেন তাঁরা যেন মাঝে মাঝে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন। তাহলে ওখানকার পথচারীদের দুর্গতি নিজের চোখে দেখতে পারবেন।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশিং কমিউনিটির সদস্য সুলেইমান ও শুয়েব আহমদ জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তাঁরা যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। তবে বড় সমস্যা হলো সড়কের দুই পাশের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ অভিযানের কয়েক দিন পরই হকাররা আবার আগের জায়গায় ফিরে আসে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নবনিযুক্ত পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক বলেন, ব্যস্ততম এই সড়ক মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের স্ট্যান্ড বন্ধ এবং ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পৌরসভা যৌথভাবে কাজ করলে সমস্যা দূর করা সম্ভব। দ্রুতই এই সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×