১০ মিনিটের রাস্তায় লেগে যায় আধা ঘণ্টার ওপর
নেত্রকোনা জেলা শহরের মোক্তারপাড়া ব্রিজের দক্ষিণ পাশের প্রধান সড়কে যানজট সমকাল
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
ফুটপাত হয়ে গেছে দখল। সড়ক হয়ে গেছে সংকীর্ণ। সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও মিশুকের মতো যানবাহন। ক্ষণে ক্ষণে লেগে যাচ্ছে তীব্র যানজট। একবার যানজটে আটকে গেলে ১০ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতে লেগে যায় কমপক্ষে আধা ঘণ্টা। এটি নেত্রকোনা পৌর শহরের একমাত্র সড়কের নিত্যদিনের চিত্র।
পৌর শহরের মোক্তারপাড়া এলাকায় রয়েছে দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজ। এসব প্রতিষ্ঠান ছুটি হলে যানজটের কারণে বের হতে পারে না শিক্ষার্থীরা। ফুটপাত দিয়েও চলাচল করা যায় না। কারণ ফুটপাতে রয়েছে অবৈধ দোকানপাট। মাঝে মধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা। কিন্তু প্রশাসনের টনক নড়ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
রাস্তার দখল নিয়েছে অটোরিকশা ও ইজিবাইক। চালকদের কোনো সিগন্যাল জ্ঞান না থাকায় ইচ্ছেমতো চলাচল, যত্রতত্র পার্কিং ও যাত্রী ওঠানামা করছেন। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বেড়েছে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনা। মাঝে মধ্যে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালালেও অভিযান শেষ করে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে।
২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, ২ হাজার ৪০০ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও ১ হাজার ৩০০ মিশুক ও ১ হাজার ১০০ রিকশার লাইসেন্স দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। যেগুলো পৌর শহরে দুই শিফটে চলাচল করার কথা। একদিন হলুদ রংয়ের, অন্যদিন লাল রংয়ের। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাইরের এলাকার অটোরিকশা, মিশুক ও রিকশা পৌর শহরে ঢুকে চলাচল করছে। যার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই পৌর কর্তৃপক্ষের। এর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে পৌর শহরে। এ ছাড়া লাইসেন্সবিহীন যানবাহনের সংখ্যাও কম নয়। দিনের বেলায় পৌর শহরের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে লড়ি, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের বড় বড় যানবাহন। ফলে পৌর শহরের সংকীর্ণ রাস্তাটি তীব্র যানজটে গতি হারায়। কিন্তু এসব সমস্যা সমাধানে ট্রাফিক পুলিশের তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়ে না। শহরের কয়েকটি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন থাকলেও তারা যানজট নিরসনে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না বলে অভিযোগ পৌরবাসী অনেকের।
স্থানীয়রা জানান, যানজটের কারণে অনেকেই সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেকেই মাঝ পথে দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকেন। তাতে রোগী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবীদের পড়তে হয় বিপাকে।
শহরের রাজুর বাজার, আখড়ার মোড়, তেরি বাজার, থানার মোড়, ছোটবাজার, মেছুয়া বাজার, বড় বাজার, চক মসজিদ মোড়, মালনী রোড, মোক্তারপাড়া এলাকায় যানজট নিত্যদিনের ঘটনা। এসব এলাকার বেশ কিছু পয়েন্টে ব্যস্ত রাস্তার ফুটপাত দখল করে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফুটপাত দখল করে ফল, কাপড়, জুতা, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন তারা। এতে সড়ক সংকুচিত হয়ে পড়ায় পথচারীদের হাঁটতে হচ্ছে মূল রাস্তা ধরে। ফলে মাঝে মধ্যে ঘটছে দুর্ঘটনা।
নেত্রকোনা শহরের কুরপাড় এলাকার বাসিন্দা মোনায়েম খান বলেন, নিয়মনীতি না মেনে জেলা শহরে যানবাহন চলাচল করে। স্কুল-কলেজ ছুটি হলে সড়ক দিয়ে চলাচল করাই দায় হয়ে যায়। ১০ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগে আধা ঘণ্টার ওপরে। পৌরসভার বাইরে থেকেও অনেক যানবাহন শহরে চলাচল করে। পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। অবস্থা দেখে মনে হয় এসব দেখার যেন কেউ নেই।
পৌর শহর যানজটমুক্ত রাখতে সীমিত সংখ্যক ইজিবাইক চলাচল ও ফুটপাতগুলোকে দখলমুক্ত রাখার দাবি পৌরবাসীর। এ ছাড়া জেলা শহরের বড় বাজার, চক মসজিদ মালনী রোড, তেরি বাজার মোড় থেকে একমুখী রিকশা চলাচল করলে যানজট কমে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এলাকাবাসী।
নেত্রকোনা পৌরসভার প্রশাসক ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক আরিফুল ইসলাম সরদারের ভাষ্য, পৌর শহরের যানজট নিরসনে কাজ করা হচ্ছে। চলতি জুলাই মাসে অটোরিকশা, মিশুকের লাইসেন্স নবায়ন হলে যানজট কমে আসবে।
- বিষয় :
- ফুটপাত