ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

সাভার

সেই কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

সেই কিশোর নির্যাতনের ঘটনায় বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার
×

মাহাবুব হোসেন সামির

 সমকাল প্রতিবেদক, ঢাকা নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার  

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৯:২৩ | আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ১১:০৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

সাভারে রিপন দাস নামে এক কিশোরকে তুলে নিয়ে মাথা, চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন মাহাবুব হোসেন সামির। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সদ্য বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক। কিশোরকে নির্যাতন ছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে আরেকটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত গতকাল বৃহস্পতিবার ৩টার দিকে রাজধানীর সদরঘাটের জংশন রোড থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা জেলা পুলিশের একটি গোয়েন্দা দল। এরপর তাঁকে সাভার থানায় হস্তান্তর করা হয়। 

ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সাইদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সামিরের গতিবিধির ওপর কয়েক দিন থেকেই নজর রাখা হচ্ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জংশন রোড থেকে তাঁকে ধরা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে কিশোরকে নির্যাতন ও চাঁদাবাজির ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে। 

ভুক্তভোগী কিশোরের স্বজনরা সমকালকে বলেন, জুনিয়র-সিনিয়র দ্বন্দ্বের জের ধরে ২ মে রিপনকে সাভারের রাজাসন এলাকা থেকে কয়েকজন তুলে মাহাবুবের অফিসে নিয়ে যান। এরপর তাঁর ওপর বর্বর নির্যাতন চালান মাহাবুবসহ কয়েকজন। 

মামলার বাদী রিপনের বোনজামাই স্বপন সূত্রধর সমকালকে জানান, ৩০ মে বিকেলে সাভারের রাজাসন এলাকায় এক ছেলের সঙ্গে রিপনের ধাক্কা লাগে। এ নিয়ে দুজনের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে ঘটনার দিন রিপনকে একা পেয়ে কয়েকজন যুবক ছাত্রদল নেতা মাহাবুরের অফিসে নিয়ে যান। ঘরের দেয়ালের সঙ্গে মাথায় আঘাত করে ও লাঠি দিয়ে দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়। 

মাহাবুব হোসেন সামির সাভার সদর ইউনিয়নের দেওগাঁও এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ, নির্যাতনের শিকার রিপন দাসের পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুন রিপন মনি দাস নামে এক কিশোরকে অপহরণ করে পাশবিক নির্যাতন চালান মাহাবুব হোসেন সামির ও তাঁর সহযোগীরা। এ ঘটনায় ওই কিশোরের বোনজামাই স্বপন সূত্রধর বাদী হয়ে ২৫ জুন ছাত্রদল নেতা মাহাবুব হোসেন সামিরকে প্রধান আসামি করে আরও চারজনের নাম উল্লেখ করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। 

পুলিশ জানায়, কিশোর নির্যাতনের ঘটনা ছাড়াও সামিরের বিরুদ্ধে গত ১২ জুন সাভার মডেল থানায়  মামলা করেন লাবনী বেগম নামে এক নারী।  এজাহারে উল্লেখ করা হয়, স্থানীয় শামীম রেজার বাসায় ঢুকে তাঁর পরিবারের সদস্যদের মারধর, নারীকে লাঞ্ছিত করা, শিশুকে আছাড় দেওয়া, স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা করেন মাহাবুব ও তাঁর সহযোগীরা। এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শেষে সাভার মডেল থানায় মাহাবুব হোসেন সামিরসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, লুটপাট, হামলা, নারী লাঞ্ছনা ও হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের হয়।
শামীম রেজার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, নগদ চার লাখ ১৭ হাজার ৬০০ টাকা লুট এবং গ্যারেজ থেকে ১২টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যায় হামলাকারীরা। একই সময় গ্যারেজের ক্যাশবাক্স থেকে আরও ৯০ হাজার টাকা লুট করা হয়। পরে গ্যারেজে হামলা চালিয়ে আরও ছয়টি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর আরও পাঁচটি অটোরিকশা, ১৪ লাখ টাকার ব্যাটারি ও ছয় লাখ টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল জোরপূর্বক নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। 
 

আরও পড়ুন

×