ঢাকা শনিবার, ০৪ জুলাই ২০২৬

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল ও যুবদলের ৩ নেতা বহিষ্কার

হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল ও যুবদলের ৩ নেতা বহিষ্কার
×

মানিক মিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ২৩:১৩

সাবেক এক শ্রমিক নেতা হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাত্রদল ও যুবদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যুবদল নেতাকে বহিষ্কার করে গত বৃহস্পতিবার চিঠি পাঠিয়েছে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি। ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করে শুক্রবার চিঠি পাঠায় সংগঠনটির ময়মনসিংহ উত্তর জেলা কমিটি।

বহিষ্কার হওয়া তিনজন হলেন– ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুন্সি, গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসান।

হত্যাকাণ্ডের শিকার মানিক মিয়া গৌরীপুর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি। গত মঙ্গলবার রাতে গৌরীপুর পৌর শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত বুধবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, হামলার পর ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে প্রভাবশালী মহলের চাপে হাসপাতালে ভর্তির নথিতে ‘সড়ক দুর্ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন ভুক্তভোগীর স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা। এতে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ১০-১২ জনকে। এসব তথ্য জানিয়েছেন নিহত মানিক মিয়ার ভাই সুখ মিয়া।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুবদল নেতা শোয়েব মুন্সিকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, জনবিরোধী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বহিষ্কৃতদের কোনো ধরনের অপকর্মের দায়ভার দল বহন করবে না। একই সঙ্গে, এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একই ঘটনায় ছাত্রদল নেতা আল ইমরান খান ও রিফাত হাসানকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে। এই বিষয়ে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সমকালকে নিশ্চিত করেছেন গৌরীপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মনিরুজ্জামান মানিক।

গৌরীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান জানান, মামলার পর থেকেই আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

×