ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

হাঁড়িভাঙা এখন ফুলবাড়ীর ‘ব্র্যান্ড’

হাঁড়িভাঙা এখন ফুলবাড়ীর ‘ব্র্যান্ড’
×

 ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সুস্বাদু ও আঁশহীন হাঁড়িভাঙা আম। বাণিজ্যিকভাবে এই আমের চাষ এ অঞ্চলের অনেক কৃষকের ভাগ্য বদলে দিয়েছে। ফুলবাড়ীতে এখন অন্যতম একটি ‘ব্র্যান্ড’-এ পরিণত হয়েছে হাঁড়িভাঙা আম।

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আমের ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাচ্ছেন চাষিরা। উপজেলা গত ১৫ জুন থেকে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বাজারজাত শুরু করেছেন বাগানমালিক ও ব্যবসায়ীরা। 
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার শিবনগর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার দুই ধারে সারি সারি হাঁড়িভাঙা আমের বাগান। গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে থোকায় থোকায় আম। চাষিরা জানান, অতিরিক্ত গরমের কারণে এ বছর নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগেই আম পাকতে শুরু করেছে। কৃষি বিভাগ ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাঁড়িভাঙা আম সাধারণত জুনের মাঝামাঝি থেকে জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত পাওয়া যায়। ফুলবাড়ী ছাড়াও বর্তমানে জেলার বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট ও পার্বতীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় এই আম চাষের ব্যাপক বিস্তার ঘটছে।
শিবনগর গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান বলেন, আগে দুই একর জমিতে ধান ও আলুর চাষ করতেন। বছরে লাভ হতো বড়জোর এক লাখ টাকা। আট বছর আগে সেই জমিতে হাঁড়িভাঙা আমের বাগান করেন। গত বছর বাগান থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন। এবার আরও বেশি লাভের আশা করছেন।

একইভাবে ধান চাষ ছেড়ে আম চাষে ঝুঁকছেন অনেক কৃষক। বুজরুক সমশেরনগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন ও আলাদিপুর ইউনিয়নের বাসুদেবপুর এলাকার আজাদ আলী জানান, ধান চাষের চেয়ে আম চাষে লাভের পরিমাণ আকাশ-পাতাল তফাত। ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় তারা প্রতিবছরই লাখ টাকার ওপর মুনাফা করছেন।
উপজেলার দামার মোড়, বেজাই মোড়, বারাইহাট, ফুলবাড়ী বাজারসহ পার্শ্ববর্তী কালীহাটে এখন হাঁড়িভাঙা আমের জমজমাট বেচাকেনা চলছে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা আম কিনতে এসব বাজারে ভিড় করছেন। মৌসুমের এই সময়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ থেকে ২৫ ট্রাক আম দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, উপজেলায় প্রতিবছরই হাঁড়িভাঙা আমের চাষ বাড়ছে। লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকেরা ধানি জমিতেও আমের বাগান করছেন। বর্তমানে উপজেলায় ৪৬০ হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙাসহ বিভিন্ন জাতের আম গাছ রয়েছে। গত বছর এখানে প্রায় ১০ থেকে ১২ কোটি টাকার আম বিক্রি হয়েছিল; এবার তা ১৪ থেকে ১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

আরও পড়ুন

×