অনুমতি ছাড়াই বিদেশে শিক্ষক সংকটে ব্যাহত নিয়মিত পাঠদান
ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ধর্মপাশা উপজেলায় চাকরি ফাঁকি দিয়ে দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকের অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমানোর অভিযোগ উঠেছে।
নিয়ম অনুযায়ী তাদের চাকরি থেকে অব্যাহতি বা চূড়ান্ত বরখাস্ত না করায় শূন্য পদে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিদ্যালয় দুটিতে দীর্ঘস্থায়ী শিক্ষক সংকট তৈরি হয়েছে, যা ব্যাহত করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সুখাইড় রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রিন্স চন্দ্র তালুকদার গত বছরের ৪ নভেম্বর থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চিকিৎসাজনিত ছুটি নেন। ছুটি শেষে আর বিদ্যালয়ে যোগদান করেননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রিন্স চন্দ্র তালুকদার ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপালী রানী দাসের ছেলে। পাসপোর্ট করা কিংবা বিদেশে যাওয়ার জন্য তিনি কর্তৃপক্ষের কোনো অনুমতি নেননি। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তাঁর ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করা কিছু ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে অবস্থান করছেন।
এদিকে নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে কাগজ-কলমে তিনজন শিক্ষক কর্মরত আছেন। এর মধ্যে অপর সহকারী শিক্ষক মনি রানী তালুকদার (প্রধান শিক্ষকের ননদ) গত বছরের জুন মাস থেকে সিলেটের একটি বিদ্যালয়ে প্রেষণে (ডেপুটেশন) আছেন। প্রিন্স চন্দ্র তালুকদারও অনুপস্থিত থাকায় কার্যত একজন শিক্ষক দিয়েই চলছে পুরো বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।
একই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার পাইকুরাটি ইউনিয়নের রায়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সেখানকার সহকারী শিক্ষক পাপিয়া সুলতানা গত বছরের মে মাসে চিকিৎসাজনিত ছুটি নিয়ে আর ফিরে আসেননি। বিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, তিনি বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিনা অনুমোতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এই দুই শিক্ষককে দ্রুত চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে নতুন শিক্ষক পদায়ন করা হোক।
শিক্ষক ও মা হিসেবে নোয়াগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিপালী রানী দাস পৃথক বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিনি বলেন, সহকারী শিক্ষক প্রিন্স চন্দ্র তালুকদার কোথায় আছেন তিনি জানেন না। তাই হাজিরা খাতায় তাঁকে অনুপস্থিত দেখানো হচ্ছে। মা হিসেবে তিনি স্বীকার করেন যে, তাঁর ছেলে দেশের বাইরে আছেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহন লাল দাস যদিও দেশের নামটি তিনি প্রকাশ করতে রাজি হননি।
- বিষয় :
- শিক্ষক