ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

শালিখায় নামসর্বস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেড় কোটি টাকার বরাদ্দ

শালিখায় নামসর্বস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেড় কোটি টাকার বরাদ্দ
×

আড়পাড়া ইউনিয়নের চুকিনগর গ্রামের মুন্সী শহিদুর রহমান বিএম কলেজের স্থাপনা। ছবি- সমকাল

মাগুরা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ১৯:১৮ | আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬ | ২০:২৬

মাগুরার শালিখায় নামসর্বস্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।  এই বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় কেউ কেউ।  শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে উপজেলার মুন্সী শহিদুর রহমান বিএম কলেজের নামে দেড় কোটি টাকার ওই বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত অর্থবছরের শেষ দিকে, ২১ জুন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর মাগুরার দুই আসনের মোট ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য দেড় কোটি টাকা করে মোট ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। ইতোমধ্যে মাগুরা শিক্ষা প্রকৌশল বিভাগ বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্মাণাধীন ভবনের নকশা অনুমোদনের জন্য মাটি পরীক্ষার কাজ শুরু করেছে। তবে কাগজে-কলমে শালিখায় মুন্সী শহিদুর রহমান বিএম কলেজ নামে এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব ও কোনো সাইনবোর্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস জানায়, উপজেলার কোথাও এ নামে কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তবে আড়পাড়া ইউনিয়নের চুকিনগর গ্রামে একই নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রয়াত ইউপি চেয়ারম্যান মুন্সী শহিদুর রহমানের নামে তাঁর ছেলে মুন্সী কামরুজ্জামান নবাব ২০১৮ সালের দিকে প্রায় ৫০ শতাংশ জমির ওপর টিনশেড ঘর নির্মাণ করে কলেজ চালুর উদ্যোগ নেন। শুরুতে অল্প কিছু শিক্ষার্থীর যাতায়াত থাকলেও একাডেমিক স্বীকৃতি না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি আর চালু হয়নি। বর্তমানে টিনশেড ঘর দুটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

চুকিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে একটি ধানচাতালের পাশে দুটি জরাজীর্ণ টিনশেড ঘর দাঁড়িয়ে আছে। নেই কোনো সাইনবোর্ড, শিক্ষার্থী কিংবা শিক্ষা কার্যক্রমের কোনো চিহ্ন। চারপাশে আগাছা ও পানি জমে আছে। ভবনের ভেতরে উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া কয়েকটি নতুন বেঞ্চ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ পরিচয় দিয়ে মুন্সী কামরুজ্জামান নবাব সরকারি অনুদান সংগ্রহের পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের নামে অন্তত ১৫ জনের কাছ থেকে দুই থেকে তিন লাখ টাকা করে নিয়েছেন। বেতন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হলেও কখনোই বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। ২০২০ সালের দিকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে নিয়োগপ্রাপ্তরা টাকা ফেরত চাইলে সেটিও পাননি। পরে অনেকেই বাধ্য হয়ে চায়ের দোকান, ডিমের ব্যবসা, বিউটি পার্লারসহ বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কথিত অধ্যক্ষ মুন্সী কামরুজ্জামান নবাব। তিনি দাবি করেন, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের অনুমতি না থাকায় খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। টাকার বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগও তিনি নাকচ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানে ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে, দুটি শিফটে পাঠদান চলছে এবং চলতি বছর ৭০ জন শিক্ষার্থী উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। 

মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীর ডিও লেটারের ভিত্তিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিতে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে মাগুরা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সরকার হারুন অর রশিদ বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের ডিও লেটারের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করেছে। বরাদ্দপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের জরিপ প্রতিবেদন ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এবং মাটি পরীক্ষার প্রতিবেদনসহ নকশা অনুমোদনের কাগজপত্র ১৫ আগস্টের মধ্যে অধিদপ্তরে জমা দিতে বলা হয়েছে। আমরা সেই নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। জরিপে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×