প্রতিবছর তিনবার ফেরিঘাট ওঠানামা, বিপুল অর্থ ব্যয়
পাটুরিয়ায় তিন নাম্বার ঘাটের অপ্রোচ সড়কে কাদায় আটকে আছে ট্রাক সমকাল
নিরঞ্জন সূত্রধর, শিবালয় (মানিকগঞ্জ)
প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০২
| প্রিন্ট সংস্করণ
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এবং আরিচা-কাজীরহাটে বছরে অন্তত তিনবার ফেরিঘাটগুলো উঁচ নিচু করতে হয়। একইসঙ্গে নতুন করে নির্মাণ করতে হয় অ্যাপ্রোচ সড়ক। স্থায়ী ঘাট নির্মাণ না করে মৌসুম অনুযায়ী এমন অস্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ায় বছরে সাড়ে তিন কোটি টাকার বেশি ব্যয় হচ্ছে সরকারের। এরপরও ঘাটে নানা বিপাকে পড়ে যানবাহন, দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের।
সংশ্লিষ্টরা জানান, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমতে থাকলে লো ওয়াটার ঘাট, পানি স্বাভাবিক থাকলে মিড ওয়াটার ঘাট এবং বর্ষা মৌসুমে পানি বেশি বৃদ্ধি পেলে হাই ওয়াটার ঘাট– এই তিন স্তরে ঘাট এবং এর পাশাপাশি অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করতে হয় বিআইডব্লিউটিএকে। সূত্র জানায়, এই দুই নৌ রুট এলাকায় নদী শাসন না করায় সেখানে স্থায়ী ঘাট নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অস্থায়ী ভিত্তিতে ব্যবস্থা তথা পানির স্তর অনুযায়ী ঘাট উঁচু বা নিচু করতে হয়। ঘাটগুলো স্থায়ীভাবে নির্মাণ না করা গেলে সরকারের বিপুল অর্থ সাশ্রয় হতো বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
বিআইবব্লিউটিএ সূত্র জানায়, অস্থায়ী ভিত্তিতে একটি ঘাট নির্মাণ করতে ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা লাগে। কিন্ত প্রতিবছর এত টাকা ব্যয় করার পরও ফেরিতে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন লোড-আনলোড (ওঠা ও নামা) করতে বিঘ্ন হচ্ছে বলে যানবাহন চালকরা অভিযোগ করেছেন। বৃষ্টি হলে কাদার কারণে ফেরি থেকে যানবাহনগুলো অ্যাপ্রোচ সড়ক দিয়ে মূল সড়কে উঠতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। কাদায় প্রায়ই বাস ট্রাকের চাকা আটকে যায়। পরে সে যানবাহন রেকার দিয়ে টেনে উঠাতে হয়। এসব ক্ষেত্রে ঘাটও বন্ধ রাখতে হয়।
মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ফেরিঘাট ৪টি, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় ৪টি এবং আরিচায় দুটি ও কাজীরহাট দুটি ফেরিঘাট রয়েছে। প্রতিটি ঘাটই বছরে তিনবার করে ওঠানামা (পানির স্তর অনুযায়ী উঁচু বা নিচু) করতে হয়। নতুন করে সংযোগ সড়কও নির্মাণ করতে হয়। এতে বছরে ১২টি ঘাট বাবদ প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় হয়।
পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটটি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সড়কপথে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এ রুটে সারাবছরই কোনো না কোনো সমস্যা লেগেই থাকে। বর্ষা মৌসুমে নদীতে উত্তাল ঢেউ ও তীব্র স্রোতে ঘাটগুলো ভেঙে যাওয়ার কারণে এবং শুষ্ক মৌসুমে নাব্য সংকটে স্বাভাবিকভাবে ফেরি চলাচলে সমস্যা হওয়া। আবার শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে প্রায়ই কয়েক ঘণ্টা ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে এ নৌ রুট দিয়ে চলাচলরত যাত্রীদের সারাবছরই কম বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে কুষ্টিয়াগামী ট্রাকচালক আমজাদ হোসেন বলেন, গত বৃহস্পতিবার পাটুরিয়ার ৩ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় অ্যাপ্রোচ সড়কে কাদার কারণে চাকা ফেঁসে যায়। পরে রেকার দিয়ে ট্রাক ওঠানো হয়।
বিআইডব্লিউটিএর আরিচা অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী রুবেল আলম বলেন, একদিকে ঘাট মেরামত করা হচ্ছে। অন্যদিকে নদীর স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে। বেশি স্রোত হলে ৪ ও ৫ নম্বর ঘাটও নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে ঘাটগুলো রক্ষার জন্য স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নিতে বারবার চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা নদী শাসন করে দিলে স্থায়ীভাবে ঘাট নির্মাণ করা যাবে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা অফিসের ডিজিএম আব্দুল সালাম বলেন, বৃষ্টি হলে ফেরিঘাটের অ্যাপ্রোচ সড়কগুলো পিচ্ছিল হয়ে যায়। এ কারণে ফেরি থেকে যানবাহন লোড-আনলোডে সমস্যা হয়। ভারী যানবাহন অ্যাপ্রোচ সড়কে ফেঁসে যায়। তখন ওই ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোড বন্ধ রাখতে হয়। সে সময় অন্য ঘাটের ওপর যানবাহনের চাপ বেশি পড়ে। তিনি আরও বলেন, নদীতে পানি বৃদ্ধির কারণে ৫ নম্বর ঘাট প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে। এখন দুটি ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন লোড-আনলোড করতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক আকতারুজ্জামান বলেন, আমরা কারিগরি সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। আমাদের মন্ত্রণালয় নির্দেশ দিলে আমরা স্থায়ীভাবে কাজ করব। তা ছাড়া, ঘাটগুলোর বিষয়ে স্থায়ীভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব বিআইডব্লিউএর।
- বিষয় :
- ফেরি