ঢাকা রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬

১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষক, বেতন-ভাতা তুলেছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা

১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত শিক্ষক, বেতন-ভাতা তুলেছেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা
×

ছবি: সংগৃহীত

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪৫ | আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৪৮

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিষয়ের শিক্ষক পীযূষ কান্তি ঘোষ দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও তাঁর ব্যাংক হিসাব নম্বরে সরকারি বেতন-ভাতার (এমপিও ভাতা) টাকা জমা হওয়া এবং সেখান থেকে একাধিক ব্যক্তির যোগসাজশে প্রায় অর্ধকোটি টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০০৬ সালে পীযূষ কান্তি ঘোষ কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। এমপিওভুক্ত না হওয়ায় তিন বছর পর ২০০৯ সালে তিনি ঢাকায় গিয়ে অন্য পেশায় যোগ দেন। এরপর আর বিদ্যালয়ে ফেরেননি। তবে এর মধ্যে তিনি এমপিওভুক্ত হন এবং দীর্ঘদিন ধরে তাঁর সোনালী ব্যাংকের কালিয়া শাখার একটি হিসাবে সরকারি বেতন-ভাতার টাকা জমা হতে থাকে। চলতি বছরের জুন মাসেও তাঁর হিসাবে সরকারি অর্থ জমা হয়েছে। সেখান থেকে বিভিন্ন সময়ে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের যোগসাজশে প্রায় অর্ধকোটি টাকা উত্তোলন করার অভিযোগ রয়েছে। 

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার পরেও পীযূষ কান্তি ঘোষকে এমপিওভুক্ত করা এবং বেতন উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় বিদ্যালয়ের কয়েকজন সাবেক শিক্ষক ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক, সভাপতি এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলক চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পীযূষ কান্তির বেতন বন্ধ রাখেন। পীযূষ কান্তি ও বর্তমান প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি আপন মামাতো-ফুফাতো ভাই এবং তাঁরা এ ঘটনার সাথে জড়িত। তবে ব্যাংক হিসাবে বেতন জমা ও উত্তোলনের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।

বর্তমান প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, আমার জানামতে পীযূষ কান্তিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু আদালতের একটি আদেশ এবং তৎকালীন বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁর হিসাবে বেতন পাঠানো হয়েছে। তাঁর বেতন চালু এবং উত্তোলনের বিষয়ে আমিসহ সাবেক প্রধান শিক্ষক নিরঞ্জন কুমার বোস ও অনন্ত কুমার জড়িত রয়েছি। এর দায় প্রধান শিক্ষকগণ ও কমিটির সভাপতিগণ এড়াতে পারেন না। 

অভিযুক্ত শিক্ষক পীযূষ কান্তি দাবি করেন, ২০০৯ সালে তিনি বিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দেন এবং এরপর আর সেখানে যাননি। তিনি বলেন, আমার নামে সোনালী ব্যাংক কালিয়া শাখায় নির্দিষ্ট হিসাবটি থাকলেও আমি ওই হিসাব থেকে কোনো চেক বই বা টাকা উত্তোলন করিনি, এমনকি ওই ব্যাংকেও দীর্ঘদিন যাইনি। 

কীভাবে তাঁর হিসাবে বেতন-ভাতার টাকা জমা হচ্ছে এবং সেখান থেকে টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

সোনালী ব্যাংক কালিয়া শাখার ব্যবস্থাপক মুফতিকাম বিশ্বাস জানান, সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে পীযূষ কান্তির হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তাঁর হিসাবে এখনও ২ লাখ টাকার বেশি জমা আছে। তিনি আরও বলেন, ‘যার হিসাব, সে চেকে স্বাক্ষর করে টাকা উত্তোলন করতে পারে। এখানে অন্য কারও টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।’  

নড়াইলের ভারপ্রাপ্ত জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও কোনো শিক্ষক সরকারি বেতন-ভাতা নিয়ে থাকলে তা গুরুতর অনিয়ম। বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন

×