অর্থপাচার মামলা
গাইবান্ধায় রাম বিগ্রহ নির্মাণের ঘটনায় আলোচিত হরিদাস গ্রেপ্তার
হরিদাস চন্দ্র তরনী দাস (ছবি-সংগৃহীত)
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১৫:১৭ | আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ | ১৭:৫৯
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা আলোচিত হরিদাস চন্দ্র তরনী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান। রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পলাশবাড়ীর শ্রী শ্রী রাম মন্দির থেকে ঢাকার সিআইডির একটি বিশেষ দল তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে। ওসি সরোয়ার আলম খান জানান, ঢাকা থেকে আসা সিআইডির বিশেষ দলটি রোববার রাতে হরিদাসকে হেফাজতে নেয়। ঢাকার উত্তরার পশ্চিম থানায় তার বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলা রয়েছে। সেই মামলায় পলাশবাড়ী পুলিশে সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় সিআইডি পুলিশ।
হরিদাস চন্দ্র এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। এরআগে, ২০২২ সালে বিভিন্ন অফিসার ও মন্ত্রীর পরিচয়ে বদলি বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে কোটি টাকা আত্মসাত মামলায় র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। সেই মামলা থেকে জামিন নিয়ে পালিয়ে ছিলেন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, সিআইডির রিকুইজিশনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে রোববার মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হরিদাসের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ থাকায় সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে। তাতে দেখা গেছে, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। এর প্রায়ই সবই তিনি উত্তোলন করেছেন, যা সন্দেহজনক। সিআইডি জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন স্থানের নানা ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ হরিদাসের ব্যাংক হিসাবগুলোতে জমা করেছেন, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সিআইডি বলছে, হরিদাসের বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার তথ্য মিলেছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রাপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত’ হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সিআইডির তথ্য মোতাবেক, হরিদাস ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন।
সম্প্রতি পলাশবাড়ী উপজেলায় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে রামের বিগ্রহ নির্মাণ কাজ শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি হবে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ। এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গত ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি।
- বিষয় :
- গ্রেপ্তার
- সিআইডি
- মানি লন্ডারিং
- পলাশবাড়ি