ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

ছেলেদের পাকা ভবন, মায়ের ঠাঁই ঘরের বাইরে চৌকিতে

ছেলেদের পাকা ভবন, মায়ের ঠাঁই ঘরের বাইরে চৌকিতে
×

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়িতে আরেসেন নেসা

বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:০২

| প্রিন্ট সংস্করণ

দুই ছেলের রয়েছে পাকা ভবন, আরও দুই ছেলের রয়েছে নিজস্ব বাড়ি, কিন্তু সেগুলোয় স্থান হয়নি বৃদ্ধ মায়ের। তৃতীয় ছেলের পাকা ভবনের বাইরে দেয়াল ঘেঁষে রাখা একটি পুরোনো চৌকিতে দুমাস দিন-রাত কাটছিল তাঁর। দেয়ালের সঙ্গে ঠেক দিয়ে রাখা পুরোনো কয়েকটি টিনের চাল ছিল তাঁর মাথার ওপর ছাউনি। টানা দুই দিনের বৃষ্টিতে চৌকিটি ভিজে যাওয়ায় আরও দুর্বিষহ হয়ে ওঠে তাঁর জীবন। খোলা আকাশের নিচে অসহায় আরেসেন নেসার বসবাসের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনা দেখা দেয়।

উপজেলার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আরেসেন নেসা (৭৬) মৃত হযরত আলীর স্ত্রী। ৩০ বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর আরেসেন নেসাই চার ছেলে ও এক মেয়েকে লালন পালন করেন। অভাব-অনটনের মধ্যেও সন্তানদের লেখাপড়া করিয়েছেন। এখন ছেলে-মেয়ে সবার সংসার হয়েছে। তাঁর চার ছেলে আব্দুর রহিম, মোমেন মিয়া, হুমায়ুন কবির ও ইয়াসিন মিয়া এবং সবার ছোট মেয়ে কুলসুম। এর মধ্যে ইয়াসিন মিয়া মারা গেছেন। এতদিন বৃদ্ধা থাকতেন তৃতীয় ছেলে হুমায়ুন কবিরের ঘরে। তবে দুই মাস বাইরে থাকতে হচ্ছিল তাঁকে।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলামের নজরে এলে তিনি গত রোববার রাতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে বৃদ্ধ মাকে হুমায়ুন কবিরের ভবনের একটি কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও ১০ হাজার টাকাও দেওয়া হয়। ছেলেদের গতকাল সোমবার কার্যালয়ে ডেকে মুচলেকা নেন ইউএনও।
এ বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, আমি মাকে সব সময় সেবা করি। বাড়িতে মেহমান আসার কারণে দুই মাস মা বাইরে ছিলেন। এটা আমার ভুল হয়েছে, আমি এখন থেকে বাকি জীবন মায়ের সেবা করব। 
ইউএনও তারিকুল ইসলাম জানান, আমি রাতে গিয়ে বৃদ্ধ মাকে ভবনে তুলে দিয়ে এসেছি। একজন বাবা কিংবা মা বার্ধক্যে বিলাসবহুল জীবন চান না। তাঁরা শুধু চান সন্তানের ঘরে একটুখানি জায়গা, দুই বেলা দুমুঠো ভাত আর একটু সম্মান। আজ আমরা সন্তান, একদিন আমরাও বৃদ্ধ হব। তাই পরিবারে বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধ সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন

×