ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বেহাল সড়কে মৃত্যুঝুঁকি উদাসীন সওজ কর্তৃপক্ষ

বেহাল সড়কে মৃত্যুঝুঁকি উদাসীন সওজ কর্তৃপক্ষ
×

ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের গাছতলা পর্যন্ত বেহাল অংশে চলাচলে অসহনীয় দুর্ভোগ যাত্রীদের সমকাল

 এনামুল হক, ধর্মপাশা (সুনামগঞ্জ)

প্রকাশ: ১৪ জুলাই ২০২৬ | ০৮:১১

| প্রিন্ট সংস্করণ

বছরের পর বছর ধরে সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের ধর্মপাশা থেকে গাছতলা পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। ক্রমাগত ভাঙচুরের মুখে ভোগান্তি ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক অংশের পরিমাণ বাড়তে থাকায় এক সময় সড়কটি পুনর্নির্মাণের দাবি ওঠে। তবে প্রতিবারই সেই দাবি মুখ থুবড়ে পড়ে সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষ দিকে স্থানীয় সড়ক অবরোধ করে ক্ষতিগ্রস্ত অংশের পুনর্নির্মাণের দাবিতে আন্দোলনে নামেন ভুক্তভোগীসহ সর্বস্তরের মানুষ। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান সংশ্লিষ্টরা। তারা আশ্বাস দেন পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।

স্থানীয়রা জানান, কর্তৃপক্ষের সেই আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাদের অপেক্ষার পালা দীর্ঘ হতে থাকে। আশ্বাস দেওয়ার পর প্রায় ৯ মাস সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শুরু করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণে প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই খানাখন্দে চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে এ সড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয়রা বলছেন, নেত্রকোনা ভিন্ন জেলা হওয়ায় ধর্মপাশাবাসীর অবর্ণনীয় দুর্ভোগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের অধীনে থাকা ধর্মপাশা-মধ্যনগর সড়কের দৈর্ঘ্য প্রায় ২০ কিলোমিটার। ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট সুনামগঞ্জ সওজের যাবতীয় কার্যক্রম নেত্রকোনা সওজের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তখন থেকে ধর্মপাশা উপজেলার সওজের যাবতীয় কার্যক্রম নেত্রকোনা সওজের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে ধর্মপাশা কংস সেতুর উত্তর পাশ থেকে মধ্যনগরের পিঁপড়াকান্দা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজ করা হয়। দুর্বল কাজের কারণে কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। গলইখালী থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থান ভাঙনের কবলে পড়ে হাওরে বিলীন হয়েছিল। বন্যাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়কটি।
২০২৪ সালে গাছতলা বাজার থেকে মধ্যনগর পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার হলেও ধর্মপাশা থেকে গাছতলা বাজার পর্যন্ত বাকি অর্ধেক সড়ক সংস্কার হয়নি। কোথাও সড়কটি ভেঙে সরু হয়ে গেছে। ফলে যানবাহন পাশ কাটাতে গিয়ে সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজটের। এ সড়কের বিজয় ২৪ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-সংলগ্ন এলাকা, রাজনগর, সৈয়দপুর ও মাটিকাটা গ্রামের সামনে এবং বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ ও সাবরেজিস্টার কার্যালয়ের সামনে সৃষ্টি বড় বড় গর্তের। ফলে প্রতিদিনই যানবাহন উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। 

গত বছরের ২৭ অক্টোবর বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত এ সড়কের রাজনগর এলাকায় নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ সংহতি জানিয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় জরুরি সেবা ছাড়া সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ফলে উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধ চলাকালে বক্তারা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সড়কটি সংস্কারের ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক খবর না পাওয়া গেলে আরও কঠিন কর্মসূচি দেওয়ার ঘোষণা দেন। এমনকি স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে অফিসিয়াল গাড়ি ব্যবহার না করে ইজিবাইকে চলাচলের আহ্বান জানানো হয়।

খবর পেয়ে নেত্রকোনা সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন সেখানে উপস্থিত হয়ে জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য ১৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এর এক দিন পর নেত্রকোনা সওজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীদের জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী দুই মাসের মধ্যে কাজ শুরু হবে।  
স্থানীয় নাগরিক অধিকার আন্দোলনের প্রধান সমন্বকারী মুফতি মোল্লা মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আশ্বাসের নামে আমাদের সঙ্গে প্রহসন করা হয়েছে। দুই মাসের জায়গায় ৮ মাস কেটে গেছে। মাঝেমধ্যে বালু-সুরকি ফেলে সড়ক সংস্কারের নামে অর্থ লোপাট করা হচ্ছে। নেত্রকোনা সওজ ঘেরাওয়ের মতো কোঠর কর্মসূচির দিকে যাওয়ার কথা ভাবছেন তারা। সুনামগঞ্জের হওয়ায় নেত্রকোনা সওজ আমাদের গুরুত্বই দিচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসনও তাদের জোর দিয়ে কিছু বলতে পারছে না। যেটি নিজ জেলার হলে বলা যেত। সড়কটি আবারও সুনামগঞ্জ সওজের অধীনে দেওয়ার দাবি জানাই।’ 
পাইকুরাটি ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক ইকবাল বলেন, ‘এ নিয়ে কথা বলতে রোববার নেত্রকোনা সওজ কার্যালয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে জানানো হয় গতগুলো সংস্কারের জন্য লোক পাঠানো হবে। কিন্তু তা করা হয়নি।’
নেত্রকোনা সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী শামীম হোসেন বলেন, ‘যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে তাদের নাম সংযুক্ত করে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মাননীয় মন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় অনুমোদন পাওয়া যাচ্ছে না। অনুমোদন পেলেই কাজ শুরু হবে।’ 

আরও পড়ুন

×