ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ফরিদপুর

ছাত্রদলের ১৫ সদস্যের কমিটিতে চার নেতা বিবাহিত, দু’জনের আছে সন্তানও

ছাত্রদলের ১৫ সদস্যের কমিটিতে চার নেতা বিবাহিত, দু’জনের আছে সন্তানও
×

ফরিদপুর অফিস

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০০:০৯

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত ১৫ সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটির চারজন নেতাই বিবাহিত বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে দুই জনের সন্তানও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

রেজাউল ইসলামকে (রাজ) সভাপতি ও সোহেল মাতুব্বরকে সাধারণ সম্পাদক করে গত ২২ জুন ছাত্রদলের ফরিদপুর জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। জানা গেছে, কমিটির সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তানভীর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব এবং সহ-সভাপতি মো. রাজীব হোসেন বিবাহিত।

সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বরের গ্রামের বাড়ি উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের খালিশপট্টি গ্রামে। তিনি ১ ডিসেম্বর ২০২১ সালে প্রেমের সম্পর্কের পর ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার বেলেশ্বর রামকান্তপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে সুরাইয়া সুলতানাকে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে দাম্পত্য জীবনে বিরোধের জেরে দেনমোহর ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত একটি মামলা হয়। পরে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয় এবং বর্তমানে তিনি পুনরায় বিয়ে করে সংসার করছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. তানভীর হোসেন ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ সালে পারিবারিক ও সামাজিকভাবে ফরিদপুর সদর উপজেলার হাটগোবিন্দপুর গ্রামের ওবায়দুর মৃধার মেয়ে আবিদাকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে একটি পুত্র সন্তান রয়েছে।

এছাড়া সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ রাকিব চার বছর আগে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরাটিয়া গ্রামের এক নারীকে সামাজিকভাবে বিয়ে করেন। তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। একইভাবে সহ-সভাপতি মো. রাজীব হোসেনও উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের লক্ষণদিয়া গ্রামে সামাজিক রীতিনীতি অনুসারে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সংসার করছেন।

সদ্য ঘোষিত ছাত্রদলের কমিটিতে বিবাহিত নেতাদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যেও আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।

জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সোহেল মাতুব্বর বলেন, বিবাহিতদের নিয়ে কমিটি গঠন একটা সময় ঝামেলা ছিল। কিন্তু এখন বিবাহিত নিয়ে কোনো ক্রাইটেরিয়া নেই। তাছাড়া আমাদের এই কমিটির কথা ফরিদপুর সদরের নেতাসহ সেন্ট্রালের সবাই অবগত আছেন, কোনো সমস্যা নেই।

সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার বলেন, কমিটির বিষয়ে আমি কিছু জানতাম না। তবে কমিটিতে যোগ্য প্রার্থীদের এড়িয়ে নতুন অচেনা ছেলেদের নাম অর্ন্তভুক্ত করা হয়েছে। কমিটি ঘোষণা হওয়ার পর জানতে পারি, সেখানে ৪ জন বিবাহিত রয়েছে। তাদের মধ্যে ২ জনের সন্তানও রয়েছে। যা ছাত্রদলের গঠনতন্ত্র পরিপন্থি বলে আমি মনে করি। উক্ত কমিটি অবিলম্বে স্থগিত বা পুর্নবিবেচনা করে যোগ্য প্রার্থীদের সমন্বয়ে গঠন করা যৌক্তিক বলে আমি মনে করি।

আরও পড়ুন

×