ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলা

হরমুজের মতো সব পথ বন্ধের হুমকি তেহরানের

হরমুজের মতো সব পথ বন্ধের হুমকি তেহরানের
×

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০১:০৫ | আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০১:৫৭

ইরানকে লক্ষ্য করে বুধবার নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের বন্দরগুলোতে আবারও অবরোধ দেওয়ার পর এই হামলা চালাল তারা। নতুন বাস্তবতায় তেহরান হুমকি দিয়েছে আঞ্চলিক আরও বেশ কিছু জ্বালানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার।  

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানায়, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৬টার দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো শুরু করে। নতুন হামলাগুলো ইরানের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে চালানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করে তারা। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরানি বাহিনী। তাদের চালানো হামলার মধ্য দিয়ে সে বিষয়টির অবসান হবে। 

এর আগে গত মঙ্গলবারও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের কয়েক ডজন সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানায়। ওই অবকাঠামোগুলো হরমুজ প্রণালি ও ইরানের উপকূলীয় এলাকার কাছেই অবস্থিত। সব মিলিয়ে টানা সাত ঘণ্টা চলেছে হামলা। 

আলজাজিরার খবর বলছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিয়েছে। বুধবার তারা জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। এদিকে, ইরানি এক কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক দিনে ৩০ জনেরও বেশি বেসামরিক মারা গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের হামলায়। আহত হয়েছেন ২৬০ জন। 

ইরানের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের ছোড়া ১৩টি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে সাত ইরানি সেনা নিহত হয়েছেন বলেও খবর এসেছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ওই হামলার জবাব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের চালানো হামলাকে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

ইরানে সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলার হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান যদি আলোচনার টেবিলে ফেরত না আসে, তাহলে আগামী সপ্তাহে ওই আঘাত হানবে যুক্তরাষ্ট্র। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই মন্তব্য করেন ট্রাম্প। সংবাদমাধ্যমটিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আগামী সপ্তাহটা তাদের জন্য অত্যন্ত প্রতিকূল হবে। আমরা তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোগুলো ধ্বংস করে দেব। তাদের সব সেতুও গুঁড়িয়ে দেব, যদি না তারা আলোচনার টেবিলে ফেরত আসে।’ এমন একটি সময় তাঁর এ মন্তব্য সামনে এলো, যখন টানা চার দিনের মতো একে অন্যকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ।

এর আগে, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে ২০ শতাংশ টোল আরোপের হুমকিও দিয়েছিলেন। গত সোমবার অনেকটা আচমকা ওই হুমকি আসে তাঁর পক্ষ থেকে। বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মিত্ররাই আপত্তি জানান। ট্রাম্পের উপদেষ্টারাও এই পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দেন। তাদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের মূল লক্ষ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরে ওই হুমকি থেকে সরে আসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে ওই এলাকায় অবরোধ দিয়ে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী।
 
অন্য সব পথ বন্ধের হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাজে আসে এমন সব জ্বালানি সরবরাহের আঞ্চলিক পথ বন্ধের হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। ইরানের গণমাধ্যমে বুধবার উঠে এসেছে বিষয়টি। এই হুমকি দেওয়ার আগেই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে দেশটি।

আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, হয় সবাই আঞ্চলিক জ্বালানি রপ্তানির সুবিধা ভোগ করবে, আর না হয় কাউকেই এ সুবিধা দেওয়া হবে না। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান মূলত ইয়েমেনের মিত্র গোষ্ঠী হুতিদের ব্যবহারে লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল মান্দেব প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার সম্ভাব্য ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি জ্বালানি পরিবহনের পথ ঝুঁকির মুখে পড়বে।

হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে দুই দেশ। ইরানের পক্ষ থেকে সম্প্রতি বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলা এর আগে হওয়া সব কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। এদিকে, এ যুদ্ধ প্রভাব ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অস্ত্রের মজুতেও।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বিপাকে পড়তে পারে দেশটির সামরিক বাহিনী। ইন্দো প্রশান্ত অঞ্চলে ভিন্ন কোনো সংঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা কমে যাবে তাদের।

আরও পড়ুন

×