ঢাকা বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

১৯৯৭-৯৮ সালে পারলে ২০২৬ সালেও পারব, শূন্য থেকে শুরু করার বার্তা মমতার

১৯৯৭-৯৮ সালে পারলে ২০২৬ সালেও পারব, শূন্য থেকে শুরু করার বার্তা মমতার
×

ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

কলকাতা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩৭

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারা। বিদ্রোহীরা দল ছাড়লেও আবার শূন্য থেকে শুরু করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি। বুধবার রাজনৈতিক সঙ্গী মদন মিত্র দল ছাড়ার পর এক ফেসবুক বার্তায় তিনি জানান, দলের জন্মলগ্নে লড়াই করতে পারলে ২০২৬ সালেও তিনি নতুন করে লড়াই করার ক্ষমতা রাখেন।

এ সময় বিদ্রোহী শিবিরে যাওয়া তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আরও একবার ‘বেইমান’ আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি আমরা প্রতীক পাই। ১ মাস ২২ দিনের মাথায় নির্বাচনে লড়াই করি। তখন আমাদের ৮ জন এমপি ছিল। ১৯৯৯ সালে ফের লোকসভা নির্বাচন হয়, আমরা ৯ জন হই। ২০০৪ সালে একা হয়ে গিয়েছিলাম, তবুও লড়াই করে গিয়েছি। এখন রাজ্যসভায় ১০ জন এবং লোকসভায় ৮ জন এমপি আছে।

এরপরই তিনি বলেন, যাঁরা যাওয়ার চলে যাক। ১৯৯৭-৯৮ সালে লড়াই করতে পারলে ২০২৬ সালেও নতুন করে শুরু করার ক্ষমতা রাখি।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আসল তৃণমূল’ দাবি করে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার পর থেকেই ফিরহাদ হাকিম ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো শীর্ষ নেতারা শিবির বদল করেছেন। সর্বশেষ আজ বুধবার মদন মিত্র দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। মমতা অভিযোগ করেন, ইডি-সিবিআইয়ের ভয় দেখিয়ে এবং পরিবারের নামে নোটিশ পাঠিয়ে নেতাদের শিবির বদল করতে বাধ্য করা হচ্ছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলত্যাগের বাহানা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে মমতা তাঁকে সমর্থন করেন। মমতা বলেন, অভিষেক তো উছিলা বা বাহানা মাত্র। ওর ভুল মাফ হয়ে গিয়েছে। সে লড়ে যাচ্ছে এবং আগামী ৫০ বছর লড়বে।

মদন মিত্রের দলত্যাগ নিয়ে নাম না করে তিনি বলেন, ভয় দেখিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছেলে ও স্ত্রীর নামে নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। আরও একজন আজ চলে গেল, সে আগেই জানিয়েছিল তার পরিবারকে ইডি সমন পাঠিয়েছে। আমি তখনই বুঝতে পেরেছিলাম। তাই সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

একই সঙ্গে তিনি পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, আইসি ও এসপিরা বিজেপির ব্লক ও জেলা সভাপতির মতো আচরণ করে দলের বিধায়ক ও কর্মীদের ভয় দেখাচ্ছেন।

মমতা জানান, তিনি আপস বা সেটিং করলে এই অত্যাচার সহ্য করতে হতো না, কিন্তু তিনি আদর্শ ও মূল্যবোধ বিকিয়ে দেবেন না। দলের কার্যালয়ে মিটিং করতে না দিলে প্রয়োজনে ১৯৮৪ সালের মতো নিজের অফিস থেকেই তিনি আবারও তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন।

দলভাগের কারণে এবার তৃণমূলের দুই শিবির আলাদাভাবে একুশে জুলাই শহীদ দিবস পালন করবে। বিদ্রোহী গোষ্ঠী ধর্মতলায় এবং আদালতের নির্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে সমাবেশ করবেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডেকোরেটর ও মাইকওয়ালাদের ভয় দেখানো হলেও প্রয়োজনে তিনি খালি গলাতেই বিকেল ৩টা পর্যন্ত সভা করবেন।

আরও পড়ুন

×