মমতার হাত ছাড়লেন মদন মিত্র
মদন মিত্র ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২৬ | ২০:৩২
বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেন আরও নিঃসঙ্গ হলেন। এবার তাঁর পাশে থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী মদন মিত্র।
অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মমতার দল থেকে বুধবার ইস্তফার ঘোষণা দিয়েছেন মদন। যোগ দিয়েছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ঋতব্রতের তৃণমূলে।
সকালে নিজের গাড়ি নিয়ে রাজ্য বিধানসভায় যান মদন। সেখানে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে বলেন, ‘বয়স এখন জীবন-মরণ সাঁকোর সামনে দাঁড়িয়ে। এখন বুঝতে হবে কি হবে আর কি হবে না।’
মদন মিত্র বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্মান জানাচ্ছি। তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলছি, আজ এই মুহূর্ত থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের ন্যাশনাল কমিটির চিফ হুইপ, ওয়ার্কিং কমিটি এবং পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি থেকে শুরু করে সমস্ত পদ থেকে আমি ইস্তফা দিলাম।’
কামারহাটির তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদনকে পাশে বসিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বলেন, ‘আমাদের লড়াইটা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। মদন মিত্রের মতো একজন বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ যুক্ত হওয়ায় আরও শক্তিশালী হলাম।’
সম্প্রতি বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের স্ত্রী, দুই পুত্র ও পুত্রবধূকে তলব করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ ঘটনার পরই ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলে যোগ দিলেন মদন। হাজার কোটি টাকার ‘চিটফান্ড’ দুর্নীতি মামলার অন্যতম আসামি মদন মিত্র। সম্প্রতি চাকরি সংক্রান্ত মামলাতে তাঁর স্ত্রী ও দুই ছেলের নাম এসেছে।
মদন মিত্রের আগে কলকাতার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিম, অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও সাবেক মন্ত্রী জাবেদ খান মমতাপন্থী তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।