ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

বৃষ্টিতেই ধসে পড়ল সদ্য নির্মিত প্যালিসেডিং

বৃষ্টিতেই ধসে পড়ল সদ্য নির্মিত প্যালিসেডিং
×

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের রিজার্ভ ট্যাঙ্ক পুকুরপাড়ে ধসে পড়া প্যালিসেডিং। গতকাল তোলা সমকাল

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

মানিকগঞ্জ জেলা শহরের রিজার্ভ ট্যাঙ্ক নামে পরিচিত পুকুরের পাশে সড়ক সংস্কারের জন্য সদ্য নির্মাণ করা প্যালিসেডিং (প্রতিরক্ষামূলক বেষ্টনী) ধসে পড়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কাজের সঠিক তদারকি না করায় এ ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিকাদার বলছেন, নকশার ত্রুটির কারণে এমনটি হয়েছে।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গার্লস স্কুল সড়ক থেকে সিআরপি সড়ক সংস্কারের জন্য প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। সড়কঘেঁষা রিজার্ভ ট্যাঙ্কের পুকুরের পাড়ে প্যালিসেডিং দেওয়া হয় সম্প্রতি। সড়কটি সংস্কারসহ ড্রেনের কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে তিন দিনের বৃষ্টিতে রিজার্ভ ট্যাংক পুকুরের দক্ষিণ দিকের মাটিসহ প্যালিসেডিং ধসে পড়েছে। পুকুরের অন্য পাশের প্যালিসেডিংও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

রিজার্ভ ট্যাঙ্ক পুকুর পাড়ের বাসিন্দা প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম ফারুক বলেন, প্যালিসেডিংয়ের খুঁটিগুলো পাইলিং না করে সামান্য গর্ত খুঁড়ে কোনো রকমে বসানো হয়েছে। যে কারণে বৃষ্টিতে ভেজা মাটির সামান্য চাপেই ধসে পড়েছে। যদি প্যালিসেডিং নিয়ম অনুয়ায়ী মাংকি ড্রাইভ (পাইলিং) করে বসানো হতো তবে এভাবে ধসে পড়ত না। এ ক্ষেত্রে পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগ কোনো তদারকি করেনি। এই কারণে ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান তাদের ইচ্ছামতো কাজ করেছে।

অন্য বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন, প্যালিসেডিংয়ের কাজ হয়েছে খুবই নিম্নমানের। যে আরসিসি খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছে এতে প্রয়োজন মতো রড ব্যবহার করা হয়নি। নিম্নমানের খোয়া আর অপর্যাপ্ত সিমেন্ট দিয়ে খুঁটি বানানো হয়েছে। এ কারণে বৃষ্টির পানিতেই ধসে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, কাজ চলাকালে আমরা কয়েকজন মিলে নিম্নমানের কাজের বিষয়ে ঠিকাদারের লোকের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। মৌখিকভাবে পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগকে অবগত করেছিলাম। ওই সময় আমাদের কথায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
কাজটি যৌথভাবে করেছে এমএ ইঞ্জিনিয়ারিং ও মোস্তাফিজুর রহমান নামের দুটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি আরিফ হোসেন বলেন, প্যালিসেডিংয়ের ত্রুটিপূর্ণ ডিজাইনের কারণে এমনটা হয়েছে। তিনি জানান, ডিজাইন অনুযায়ী ১০ ফুট দৈর্ঘ্যের খুঁটি বসানো হয়েছে। কিন্তু এখানে দরকার ছিল কমপক্ষে ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের খুঁটি। তারা কাজে কোনো অনিয়ম করেননি দাবি করে তিনি বলেন, পরে ত্রুটির বিষয়টি নিয়ে প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী আবদুল বাতেন জানান, মূলত অতিবৃষ্টির কারণে প্যালিসেডিং ধসে পড়েছে। প্যালিসেডিং নির্মাণ যথাযথভাবে পৌরসভার প্রকৌশলী বিভাগের তত্ত্বাবধানে হয়েছে। যেহেতেু ধসে পড়েছে, এখন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ত্রুটি বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 

আরও পড়ুন

×