ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাতি, গৃহবধূকে হত্যা

সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাতি, গৃহবধূকে হত্যা
×

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:২৯

| প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌর এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাতির সময় রিগান আক্তার মিম নামে গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। ডাকাতদের হামলায় আহত হয়েছেন একই পরিবারের আরেক গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার। গত মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেপারী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মিমের স্বামী রুহুল আমিন। তিনি নারায়ণগঞ্জের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ঘটনার সময় তিনি নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছিলেন। তাদের দুই বছর এবং সাড়ে তিন মাস বয়সী দুই মেয়ে সন্তান রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাতির সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, তাদের দাদাশ্বশুর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারী এবং তিন শিশু ছিল।
আহত সুমাইয়া আক্তার বলেন, রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে মুখোশ পরা দুই ব্যক্তি ছুরি ঠেকিয়ে তাঁকে ও শিশুকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। আলমারিতে থাকা জিনিসপত্র নিয়ে যেতে বললে ডাকাতরা তাঁর হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে তাঁর কানের দুল, আলমারিতে থাকা আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে পাশের কক্ষে চলে যায়। পরে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও হাত বাঁধা থাকায় তাঁকে সাহায্য করতে পারেননি।
পরিবারের প্রবীণ সদস্য নুরুল ইসলাম বলেন, রাতে বাড়ির প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। চিৎকার শুনে উঠে দেখেন, ফটক ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।

প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, মিমের চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান। ঘরের ভেতর ধস্তাধস্তির শব্দ পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন এবং মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিতে বলেন। পরে বাড়ির পূর্ব পাশের একটি জানালা খোলা দেখতে পান স্থানীয়রা। সাবেক চেয়ারম্যান, যিনি নিহত মিমের দাদাশ্বশুর, গেট খুলে দিলে তারা ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় সুমাইয়াকে হাত বাঁধা অবস্থায় এবং মিমকে মেঝেতে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর গলায় ওড়না পেঁচানো ছিল। স্থানীয় চিকিৎসক ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে গতকাল বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) লুৎফুর রহমান। এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শাহরাস্তি থানার পুলিশ ও কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ বিচারের দাবি জানিয়েছেন নিহত মিমের স্বামী সাইফুল আলম।
শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপারে মিজানুর রহমান সমকালকে জানান, জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানা যাবে।
 

আরও পড়ুন

×