চালক হত্যা, লাশ পুঁতে রাখার বর্ণনা দম্পতির
খুলনা ব্যুরো
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৪১
| প্রিন্ট সংস্করণ
খুলনায় বাড়ির আঙিনা খুঁড়ে মারুফ সর্দার ওরফে ওমর নামের এক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দায় স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তার দম্পতি। গত মঙ্গলবার খুলনা মহানগর হাকিম ইব্রাহিম খলিল মুহিম চার ঘণ্টা ধরে তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। তারা হলেন–নগরীর হরিণটানা থানাধীন বুলু ওয়েল আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মুরাদ মোল্লা ও তাঁর স্ত্রী ফাল্গুনী খাতুন।
গত সোমবার সকালে হরিণটানা থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ জানাতে যান ফাল্গুনী। এ সময় তিনি জানান, ৫ মাস আগে তাঁর স্বামী মুরাদ এক ব্যক্তিকে হত্যা করে বাড়ির উঠানে মাটিচাপা দিয়েছেন। সেদিন বিকেলে পুলিশ মাটি খুঁড়ে মারুফের লাশ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তাঁর বোন লিনা খাতুন হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন।
স্বজনেরা জানায়, মারুফ সর্দারের বাড়ি গোপালগঞ্জে। তিনি নগরীর খালিশপুর থানার পিপলস ৫ তলা ব্যাচেলর কলোনির ৫২৫ নম্বর কক্ষে মা, স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে থাকতেন। কয়েক বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর একটি পা কেটে ফেলা হয়। জীবিকা নির্বাহের জন্য ইজিবাইক চালাতেন তিনি। গত ১৩ মার্চ সকালে ইজিবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি তিনি। এ ঘটনায় খালিশপুর থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
আদালতে নথিভুক্ত জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে হরিণটানা থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, হত্যাকাণ্ডের দুদিন আগে মারুফের ইজিবাইকে করে বাড়ি ফেরেন ফাল্গুনী। পথে মারুফের সঙ্গে কথা বলতে বলতে সুসম্পর্ক তৈরি হয়। এ সময় দুজন মোবাইল ফোন নম্বরও আদান-প্রদান করেন। বাড়ি ফেরার পর ইজিবাইক দেখে লোভ হয় ফাল্গুনীর স্বামী মুরাদের। পরে স্বামী-স্ত্রী দুজনে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ১৩ মার্চ মারুফকে ফোনে মুরাদের বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। তাঁর চায়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করার চেষ্টা করা হয়। এতেও কাজ না হওয়ায় রাত ১০টার দিকে মুরাদকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করেন ফাল্গুনী ও মুরাদ।
পুলিশ জানায়, শুরুতে তারা মরদেহ অন্য কোথাও ফেলে দেওয়ার চিন্তা করেন। তবে জানাজানির ভয়ে রাত আড়াইটার দিকে বাড়ির উঠান খুঁড়ে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ইজিবাইকের পার্টস আলাদা করে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
ওসি হেলাল উদ্দিনের ভাষ্য, ফাল্গুনী ও মুরাদের মাঝে ঝগড়া লেগে থাকত। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মুরাদ প্রায়ই স্ত্রীকে পেটাতেন। গত ১৩ জুলাই রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরে ফাল্গুনীকে ব্যাপক মারধর করে মুরাদ। পরদিন সকালে স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে থানায় গিয়ে ইজিবাইক চালক মারুফ হত্যার রহস্য ফাঁস করে দেন ফাল্গুনী। তাঁকে থানায় আটক রেখে বাড়ি থেকে মুরাদকে আটক করে পুলিশ। পরে মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
- বিষয় :
- লাশ