ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬

প্রতিহিংসায় জাকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক গৃহবধূর

প্রতিহিংসায় জাকে হত্যা করে ডাকাতির নাটক গৃহবধূর
×

চাঁদপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২৬ | ০৯:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

চাঁদপুরের শাহরাস্তি পৌর এলাকায় সাবেক চেয়ারম্যানের বাড়িতে ডাকাতির সময় রিগান আক্তার মীম নামে গৃহবধূ নিহতের ঘটনাটি তাঁর জায়ের সাজানো ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাঁর জা সুমাইয়া আক্তারকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা। সুমাইয়া প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে গলা টিপে হত্যা করে ডাকাতির নাটক সাজায় বলে দাবি পুলিশের। গত মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেপারী বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, ঘটনা তদন্তে একটি টিম গঠন করা হয়। সুমাইয়ার আক্তারের অসংলগ্ন কথাবার্তা এবং ডাকাতির কোনো আলামত না পাওয়ায় সন্দেহ বাড়ে। পরে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে সুমাইয়া স্বীকার করেন, প্রতিহিংসা এবং ঝগড়া-বিবাদের জেরে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে জা রিগান আক্তার মীমকে গলা টিপে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর নিজেকে রক্ষার জন্য ঘরের আসবাবপত্র তছনছ করেন, পরে সে ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করেন এবং ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রতিহিংসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসামি সুমাইয়ার স্বামী ঢাকার একটি হোটেলে চাকরি করেন। ভালো বেতন পান। তিনি তাঁর বড় ভাইয়ের সন্তানদের টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতা করেন। এসব বিষয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি সুমাইয়া। এসব নিয়ে ঝগড়া-বিবাদের হতো। সেই ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটনায়।

এই ঘটনায় গত বুধবার শাহরাস্তি থানায় সুমাইয়া আক্তারকে আসামি করে মামলা করেন নিহত রিগান আক্তার মীমের বাবা কবির হোসেন। পরে আসামি সুমাইয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিলে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। সুমাইয়ার ৪ মাসের একটি সন্তান রয়েছে।
গত বুধবার ঘটনাস্থলে সুমাইয়া আক্তার পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে বলেন, গত মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে তিন মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। গভীর রাতে মুখোশ পরা দুই ব্যক্তি ছুরি ঠেকিয়ে তাঁকে ও শিশু সন্তানকে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র দাবি করে। ডাকাতরা তাঁর হাত ওড়না দিয়ে বেঁধে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে। পরে তাঁর কানের দুল, আলমারিতে থাকা আরেক জোড়া দুল ও একটি আংটি নিয়ে পাশের কক্ষে চলে যায়। পরে পাশের কক্ষ থেকে তাঁর বড় জায়ের কান্নার শব্দ শুনতে পেলেও হাত বাঁধা থাকায় তাঁকে সাহায্য করতে পারেননি। প্রকৃতপক্ষে এসবের কিছুই ঘটেনি।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাতির সময় বাড়িতে দুই গৃহবধূ, তাদের দাদাশ্বশুর সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বেপারী এবং তিন শিশু ছিল। নুরুল ইসলাম বেপারী বলেন, রাতে বাড়ির প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। চিৎকার শুনে উঠে দেখেন, ফটক ভেতর থেকে আটকানো থাকলেও তালাটি নেই। পরে বাড়ির বাইরে অক্ষত অবস্থায় তালাটি পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থলে যান পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও তদন্ত) লুৎফুর রহমান। এর আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন শাহরাস্তি থানার পুলিশ ও কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। পুলিশ আলামত সংগ্রহ করে লাশ মর্গে পাঠায়। তাদের কাছে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ বিচারের দাবি জানান নিহত মীমের স্বামী সাইফুল আলম।
শাহরাস্তি থানার ওসি মীর মাহবুবুর রহমান গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই হত্যাকাণ্ড, আসামির স্বীকারোক্তি এবং মামলার বিবরণ তুলে ধরেন।
 

আরও পড়ুন

×